বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, গতকাল সারা দেশে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৮৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। গ্যাসের সরবরাহ কমায় গত শুক্রবারের চেয়ে গতকাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও গতকাল সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ১১ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। একই সময়ে চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

তবে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির হিসাবে গতকাল সন্ধ্যা সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেশি ছিল। বিদ্যুৎ উপাদনের সঙ্গে চাহিদার ব্যবধান বেশি হওয়ায় সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের সময়সূচি মানা যায়নি।

এমনিতেই ঢাকায় দিনে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে। মতিঝিল, মগবাজার, রমনা, ধানমন্ডিসহ রাজধানীর বড় অংশে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) আওতাধীন এলাকায় গতকাল দিনের বেলায় বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল সর্বোচ্চ ১৩৫ মেগাওয়াট। আর সন্ধ্যায় ঘাটতি ছিল ১০০ মেগাওয়াটের মতো। অন্যদিকে আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া, উত্তরা, বাড্ডাসহ রাজধানীর একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) আওতাধীন এলাকায় গতকাল দিনে সর্বোচ্চ ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। এতে করে টঙ্গী থেকে বসুন্ধরা পর্যন্ত এলাকায় বারবার লোডশেডিং করতে হয়েছে। অবশ্য রাতের দিকে লোডশেডিং কিছুটা কমতে থাকে।

সিলেটে ঘোষিত সময়ের বাইরেও লোডশেডিং

সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ অঞ্চল-২–এর আওতাধীন এলাকায় গতকাল দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পাঁচবার ঘোষিত সময় সূচির বাইরেও লোডশেডিং হয়েছে। সিলেট শহরের বারুতখানা এলাকার দোকানি ইমন আহমদ প্রথম আলোকে জানান, লোডশেডিংয়ের সময়সূচি অনুযায়ী দুই দফায় দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর ১২টার পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাঁচ দফা লোডশেডিং হয়েছে। এতে প্রায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, ফ্রিজে বিক্রির জন্য রাখা তরল দুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট কার্যালয়ের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবদুল কাদির প্রথম আলোকে বলেন, সব মিলিয়ে শনিবার চাহিদা ছিল ১৭৫ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয়েছে ৮৭ মেগাওয়াট। এর ফলে লোডশেডিং বেশি করতে হয়েছে।

রংপুরে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে

রংপুরে গতকাল শনিবার লোডশেডিং গত কয়েক দিনের তুলনায় কম ছিল। শহরের ধাপ এলাকার বাসিন্দা আবদুর রউফ বলেন, দুই দিন ধরে লোডশেডিং কিছুটা কম হচ্ছে। দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে শনিবার তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। সকাল ৮টায় এক ঘণ্টার জন্য লোডশেডিং হয়। এরপর দুপুর ১২টায় এবং বিকেল ৩টায় এক ঘণ্টা করে আরও দুবার লোডশেডিং হয়।

রংপুর শহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় সকাল ৯টায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। এরপর ১২টা থেকে আরও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের রংপুরের (বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র-২) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৭ মেগাওয়াট। পাওয়া গেছে ২০ মেগাওয়াট। যে কারণে তুলনামূলকভাবে আগের থেকে কম লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

খুলনায় গ্রামে বেশি লোডশেডিং

খুলনায় পল্লী বিদ্যুৎ থেকে লোডশেডিংয়ের আগাম সূচি করা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। খুলনা শহর এলাকায় মোটামুটি সূচি মেনেই লোডশেডিং হচ্ছে। তবে গ্রামের পরিস্থিতি ভিন্ন।

খুলনার কয়রা উপজেলার ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার সারা দিনে চার-পাঁচবার লোডশেডিং হয়েছে, পাঁচ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ ছিল না।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘পূর্বাভাস অনুযায়ী শিডিউল করা থাকে, সেটা অনেক সময় মেলানো যাচ্ছে না।’

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর এবং প্রতিনিধি, সিলেট ও খুলনা)

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন