সাক্ষাৎকার: ডা. এ কে আজাদ খান

সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে ফিজিক্যালি অ্যাকটিভ থাকতে হবে

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। চিকিৎসা গবেষণায় তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই চিকিৎসক বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি। ক্রাউন সিমেন্ট অভিজ্ঞতার আলো অনুষ্ঠানের এবাবের আয়োজনে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। দীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশব ও বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে চিকিৎসা গবেষণা, ডায়াবেটিক সমিতিতে যুক্ত হওয়াসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

আনিসুল হক:

আপনাদের সবাইকে প্রথম আলোর এ বিশেষ আয়োজন ক্রাউন সিমেন্ট অভিজ্ঞতার আলোয় স্বাগত জানাচ্ছি। আজ আমরা এক বিশেষ মানুষ, আমাদের অগ্রজ এবং বাংলাদেশের এক পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব ডক্টর এ কে আজাদ খানকে পেয়েছি। তিনি আমাদের জাতীয় অধ্যাপকের স্বীকৃতি পেয়েছেন, তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁর আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে, চিকিৎসা গবেষণায় তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে আর সেটাও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির তিনি সভাপতি। আপনাদের সবাইকে ডক্টর এ কে আজাদ খানের এ আলাপচারিতায় আবারও স্বাগত জানাই। স্যার, কেমন আছেন?

এ কে আজাদ খান:  হ্যাঁ, বলো।

আনিসুল হক:

স্যার, আমরা এই অনুষ্ঠানে শৈশব থেকে, জন্ম থেকে শুরু করি। আপনার জন্ম ১৯৪১ সালে বরিশালে। এটা কোন গ্রামে, স্যার?

এ কে আজাদ খান: বরিশালের ভেতরে বাকেরগঞ্জ থানা আছে একটা। ওই থানার ১১ নম্বর ভরপাশা ইউনিয়নে কৃষ্ণকাঠী গ্রামে।

আনিসুল হক:

আপনার প্রাইমারি স্কুল কোথায় ছিল, স্যার?

এ কে আজাদ খান: আমার পাশের গ্রাম পাদ্রীশিবপুরে। আমাদের সময় তো মানুষ সাধারণত বাড়িতেই লেখাপড়া করে একটা পর্যায়ে গিয়ে প্রাথমিকে ভর্তি হতো। আমার মনে আছে, আমি ভর্তি হয়েছিলাম ক্লাস টুতে। যদিও আমার সাক্ষাৎকার নিয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা বলা হয়েছিল ওখানে। কিন্তু আমার শ্রদ্ধেয় মরহুম বাবা, তিনি লোক পাঠিয়ে বললেন, ‘না, ওকে ক্লাস টুতে ভর্তি করো। একটু গোড়ার দিকটা শক্ত হোক। শক্ত হয়ে উঠুক।’

আনিসুল হক:

স্যার, আপনার আব্বা আর আম্মার নাম কী? ওনারা কী করতেন?

এ কে আজাদ খান:  আমার আব্বা-আম্মা গ্রামেই থাকতেন। গৃহস্থ বাড়ি তো আমাদের। আব্বার নাম মৌলভী ফজলুর রহমান খান। আম্মা ফখরুন্নেসা খাতুন। গৃহিণী।

আনিসুল হক:

 সেটাই। এ অনুষ্ঠানের একটা মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানানো, যাঁরা এখন বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরা অনেকেই, বেশির ভাগই গ্রাম থেকে এসেছেন। তাঁদের প্রাইমারি স্কুল তাঁদের গ্রামের কোনো স্কুল বা পাশের গ্রামের স্কুল। সবাইকে যে ঢাকা বা ইংরেজি মাধ্যম থেকে এসে নেতৃত্বের জায়গাটা দখল করতে হয়, এটা নিয়ম নয়, বরং উল্টোটাই আগে নিয়ম ছিল।

এ কে আজাদ খান: আমরা যে স্কুলে পড়েছি, স্কুলটার নাম হলো পাদ্রীশিবপুর প্রাইমারি স্কুল। মাধ্যমিক পড়েছি সেন্ট আলফ্রেডস স্কুলে। এ স্কুলের প্রথম নাম ছিল এইচ ই স্কুল, হায়ার ইংলিশ স্কুল। কিন্তু পরে ‘এইচ ই’ বাদ দিয়ে হয় সেন্ট আলফ্রেডস হাইস্কুল। এটা মিশনারি স্কুল।

আনিসুল হক:

 জি, মিশনারি স্কুল।

এ কে আজাদ খান: এরপর ওখানকার ঘটনাটা একটু চমৎকার আমি বলব। কারণ, পাদ্রীশিবপুর তো অখ্যাত গ্রাম। এটাকে তো তখনকার সময়ের চরাঞ্চল বলা যায়। কারণ, পাদ্রীশিবপুর  বা বরিশাল জেলাটাই তো সমুদ্র থেকে উঠেছে। তখন বাস্তবে পুরোনো নাম হলো উত্তর শাহবাজপুর। ভোলা দক্ষিণ শাহবাজপুর আর বরিশালের উত্তর শাহবাজপুর। তো যা–ই হোক, কিন্তু ওখানে বোধ হয় রায়দুর্লভের জমিদারি ছিল। কিন্তু চরের লোকেরা তো দাঙ্গাবাজ হয়। তাই রায়দুর্লভ খাজনাটাজনা তুলতে পারতেন না। তখন তিনি আরও বড় দাঙ্গাবাজ ভাড়া করতে চাইলেন। সে সময় সবচেয়ে বড় দাঙ্গাবাজ ছিল পর্তুগিজরা । তিনি গোয়া থেকে পর্তুগিজ ভাড়া করে আনলেন। তারা এসে বলল যে তাদের রাখতে গেলে এখানে চার্চ বানিয়ে দিতে হবে। এই হলো ওখানকার মিশনের শুরু। এটা শের শাহর আমলের।

আনিসুল হক:

সেই মিশনের স্কুলে আপনি পড়লেন!

এ কে আজাদ খান: পড়লাম। মিশনে তিন গ্রুপের লোক ছিল। একটা হলো ফাদার, মানে যাঁরা চার্চটা চালাতেন। আরেকটা গ্রুপ স্কুল চালাত। এরা হলো ব্রাদার। আরেকটা গ্রুপ ছিল সিস্টার, নানরাও ছিল। মিশনটা ছিল বিশাল। আমার ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার, বরিশাল হেডকোয়ার্টারের মিশন এত বড় ছিল না। পাদ্রীশিবপুর মিশন এত বড় ছিল।

আনিসুল হক:

 তারপর আপনি ম্যাট্রিক পাস করলেন কত সালে, মনে আছে?

 এ কে আজাদ খান: ১৯৫৮ সালে।

আনিসুল হক:

১৯৫৮ সালে। তারপর আপনি ঢাকায় চলে এলেন। আপনি নিশ্চয়ই ছাত্র ভালো ছিলেন, রেজাল্ট ভালো ছিল।

এ কে আজাদ খান: ভালো বলতে হবে, আমাদের গ্রামের...

আনিসুল হক:

আপনার আব্বা-আম্মা আপনাকে উৎসাহিত করলেন নাকি মন খারাপ করলেন যে ছেলে ঢাকায় যাচ্ছে?

এ কে আজাদ খান: আমরা একান্নবর্তী পরিবার ছিলাম। আমার বড় চাচা মারা গেছেন তাঁর বাবা অর্থাৎ আমার দাদা বেঁচে থাকতেই। কিন্তু দাদা তো বুড়ো হয়েছেন। আমার বাবাকেই বলতে গেলে সংসারের হাল ধরতে হয়। তিনি ম্যাট্রিকের পরে আর পড়াশোনা করেননি। কিন্তু সব সময় পড়াশোনাকে উৎসাহিত করতেন।

আনিসুল হক:

তারপর ঢাকায় এসে আপনি ঢাকা কলেজে পড়লেন, হোস্টেলে থাকলেন।

এ কে আজাদ খান: ঢাকায় এসে ঢাকা কলেজে পড়লাম। যেহেতু আমি মিশন স্কুল থেকে এসেছি, ওখান থেকে বলেছিল যে আমি যেন নটর ডেম কলেজে ভর্তি হই। আমাদের হেডমাস্টার ছিলেন ব্রাদার। তিনি ছিলেন কানাডিয়ান, হোয়াইট স্কিন এবং মূলত ফরাসিভাষী। কানাডাতো ফরাসিভাষী। মন্ট্রিয়লের দিকে। ওনারা ফিলিপাইনে গিয়েছিলেন। ওই মিশনের বিভিন্ন সেগমেন্ট আছে; একই সেগমেন্ট। যদিও নটর ডেম কলেজ, সেন্ট গ্রেগরি, এরা আমেরিকান ব্রাদার্স। সেন্ট প্লাসিড চট্টগ্রামে, পাদ্রীশিবপুরে এরা কানাডিয়ান ব্রাদার্স। যা–ই হোক, আমি নটর ডেম কলেজে ভর্তি হলাম। ভর্তি তো নেবেই। নিলও। কিন্তু তাদের হোস্টেলে মুসলমান ছাত্রদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। আমি অজপাড়াগাঁ থেকে এসেছি, থাকব কোথায়? আমাদের আর্থিক অবস্থা এ রকম নয় যে একটা বাড়ি ভাড়া করে থাকব।

 তখন আমি খুবই সঠিক সিদ্ধান্ত নিলাম। ঢাকা কলেজ সে বছর সিদ্দিকবাজার থেকে এখন যেখানে আছে, সেখানে এসেছে। নতুন ভবন, নতুন হোস্টেল; আমি ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে গেলাম। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল শুধু কনভেনিয়েন্ট ছিল না। আসলে তখন ঢাকা কলেজের শিক্ষকদের যে মান ছিল, সেটা কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ভালো ছিল। যেমন আমাদের ইংরেজির শিক্ষক হলেন কবির চৌধুরী স্যার, আবদুল মওদুদ স্যার। বাংলায় মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী স্যার। মানে নামকরা ব্যক্তিত্বরা।

আনিসুল হক:

পরবর্তীকালে আপনাদের একটু সিনিয়র আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার...

এ কে আজাদ খান: সায়ীদ ভাই আমাদের সিনিয়র। শিক্ষকতা করেন অনেক পরে।

আনিসুল হক:

তারপর আপনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস করলেন। করার পর আপনার প্রথম চাকরিস্থল কোনটা?

এ কে আজাদ খান: এটা অস্বাভাবিক বলতে পারেন। আমি তো সরকারি চাকরি করেছি ২৫ বছর। কিন্তু সরকারি চাকরিতে ডাক্তারিতে বদলি হয়নি। আমি ছাড়া বোধ হয় কেউই নেই। মানে আমি চাকরি করেছি এক জায়গাতেই, পিজি হাসপাতাল। পুরো চাকরিজীবনটাই আমার পিজি হাসপাতাল। মাঝখানে পৌনে ছয় বছর অক্সফোর্ডে ছিলাম।

শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফের ডেনমার্কের প্রযুক্তিতে দেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্টিজ উৎপাদন শুরু উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ
আনিসুল হক:

কত সালে গেলেন অক্সফোর্ডে?

এ কে আজাদ খান: ১৯৭২ সালে, অক্টোবরে।

আনিসুল হক:

এফসিপিএসও করেছেন, তারপর অক্সফোর্ড থেকেও ডিগ্রি নিলেন।

এ কে আজাদ খান: এফসিপিএস তো ক্লিনিক্যাল। হ্যাঁ। ক্লিনিক্যাল কম্পিটেন্স টেস্ট। তখন তো একটাই কলেজ ছিল। আমার তো ’৭০ সালে এফসিপিএস হয়ে গেছে। ..

আনিসুল হক:

অক্সফোর্ডে স্যার, আপনার পড়াশোনা, গবেষণা—এগুলোর বিষয় কী ছিল?

এ কে আজাদ খান: ডাক্তারিতে ভর্তি হই, তখন থেকে এইম ছিল যে আমি গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে পড়ব। তখন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি তো কোনো স্পেশালিটি হিসেবে এস্টাবলিশড না। বলতে গেলে, প্রায় সব কান্ট্রিতেই গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এস্টাবলিশড না। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে যে কেন হঠাৎ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মনে হলো? গ্রামেই তো বড় হয়েছি, তো মানুষের সবার পেটের অসুখ দেখছি সব সময়। তো তখন মনে হতো, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে পড়ব এবং ওই রকম বয়সে তো মানুষের অনেক আনরিয়েলিস্টিক রোমান্টিসিজম থাকে। তখন স্বপ্ন ছিল যে ডাক্তারি পাস করে গ্রামে চলে যাব। গ্রামের মানুষের...

আনিসুল হক:

এবার মানুষের পেটের চিকিৎসা করবেন।

এ কে আজাদ খান: … তাদের অসুখ তো বেশি পেটেরই। ইনফ্যাক্ট এটা বললে অত্যুক্তি হবে না, আমরা ১৯৭২ সালে যখন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে ঢুকলাম, তখন কিন্তু গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে ঢোকা খুবই কঠিন ছিল। হাইলি কম্পিটিটিভ ছিল। কারণ, স্পেশালিটিটা তখন পৃথিবীব্যাপী ডেভেলপড হচ্ছে এবং খুব ফাস্ট মুভিং স্পেশালিটি। তো আমরা ঢুকে গেলাম। আমি বলব না যে আমাদের মেরিটে ঢুকে গেছি, কিন্তু আমরা তো স্কলারশিপে গেছি, কমনওয়েলথ ফেলোশিপে গেছি; ফলে ওইখানে প্লেসমেন্ট হয়ে গেছে। তবে এটা আমি বলব, আমরা যখন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হই ১৯৬০ সালে…তখন ডাক্তারি পড়াটা কিন্তু খুব অ্যাট্রাকটিভ সাবজেক্ট ছিল না।

আনিসুল হক:

ছিল না?

এ কে আজাদ খান: একেবারেই না। বস্তুতপক্ষে আমার ব্যাচে আমি একমাত্র ফার্স্ট ডিভিশন ছাত্র ভর্তি হয়েছি। আর কেউ হয়নি, কেউ অ্যাপ্লাই করেনি।

আনিসুল হক:

সেটা অবশ্য ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও ছিল, সব সেকেন্ড ডিভিশন...

এ কে আজাদ খান: না, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছে। আমাদের সময় ফার্স্ট ডিভিশন যারা পেয়েছে তাদের অধিকাংশ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছে। কিছু ইউনিভার্সিটিতেও গেছে। মেডিক্যালে একজনও আসেনি, আমি ছাড়া। তো সে জন্য আমার বন্ধুবান্ধবেরা খুব বলত যে ‘তুমি এই ডাক্তারি পড়ে করবা কী?’ আমি বলতাম, আমার জীবনের অ্যাম্বিশনই ডাক্তার হওয়া।

আনিসুল হক:

স্যার, আপনার তো একটা স্বীকৃত গবেষণা আছে, একটা ওষুধ আছে—এ বিষয়ে একটু যদি বলতেন।

এ কে আজাদ খান: এখন এটা বললে একটু বিস্তারিত করে বলা লাগে।

আনিসুল হক:

বলেন।

 এ কে আজাদ খান: আমি তো কমনওয়েলথ ফেলোশিপে অক্সফোর্ডে গিয়েছি। ফেলোশিপের নিয়ম হলো—আমাদের একটা ফেলোশিপ, আমি তখন জানি না দুই রকম ফেলোশিপ—সিনিয়র–জুনিয়র ফেলোশিপ আরেকটা হলো কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। তো কমনওয়েলথ স্কলারশিপে যারা যাবে, তারা সাপোজড টু ডু আ ডিগ্রি। তিন বছরের জন্য। আর ফেলোশিপে যারা যাবে, তারা ওই ফেলোশিপ পিরিয়ডে কোনো ডিগ্রিতে ভর্তি হতে পারবে না। এটাই আইন। কারণ আইডিয়াটা হলো, সে তো ট্রেনিংয়ের জন্য গেছে বা এক্সপোজারের জন্য। ওই ডিগ্রি করতে গেলে তো অনেক সময় নষ্ট হবে। তাই না? তো সে জন্য আমি যখন গেছি, তখন আর কোনো কোর্সে ভর্তি হইনি।

 অক্সফোর্ডে আমার একটা বিশাল বিবর্তন হয়েছে। শুনলে হয়তো অবাক লাগবে। কারণ, আমি যখন মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হই, অল্প সময়ের মধ্যে আমার মনে হলো যে আমি রং (ভুল) চয়েজ করছি। রং চয়েজ কেন? এখানে মেমোরি এত লাগে। লাগে, জি মুখস্থ করতে হয়, হ্যাঁ। … আমার আন্ডারস্ট্যান্ডিং যা হয়, মেমোরি অত… ; আমার ক্লাসে একটি ছেলে ছিল, ও একটা টাইম পত্রিকা দিলেও এক্সাক্ট ওটা রিপ্রডিউস করতে পারত। ফটোগ্রাফিক মেমোরি! তো আমি মনে করতাম যে এটা হয়তো ভুল লাইনে এলাম। অক্সফোর্ডে যাওয়ার পর আমার এটা সম্পূর্ণ চেঞ্জ হয়ে গেছে যে, মেমোরি ভালো, কিন্তু ওর অত ইম্পর্ট্যান্স নেই, আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইজ মোর ইম্পর্ট্যান্ট। সো আমাকে অক্সফোর্ড খুব ভালো ম্যাচ করছে। যেখানে অরিজিনালিটি অব থিঙ্কিং, নিজে থেকে করা এসবের ইম্পর্ট্যান্স আছে।

 যা–ই হোক, আমি তো এক বছরের জন্য গিয়েছিলাম। ওরাই আমাকে অনুরোধ করছে থাকার জন্য। আমি রিসার্চ যখন স্টার্ট করছি, তখন থাকার জন্য অনুরোধ করে। আমি তখন আমার ডিপার্টমেন্টের সুপারভাইজারকে বললাম। আমার সুপারভাইজার খুবই অ্যাজ আ, মানে নট অনলি হি ওয়াজ ভেরি ব্রাইট, বাট হি ওয়াজ আ এক্সিলেন্ট হিউম্যান বিং। মানে, ওই ইংরেজদের চরিত্রে কিন্তু এটা আছে। যারা ভালো, সুপার হিউম্যান। আর যারা খারাপ, তারা লর্ড ক্লাইভ। এ রকম। যা–ই হোক, তো ও আমাকে থাকতে বলল। আমি বললাম যে, তুমি থাকতে বলছ, তুমি আমার গভমেন্টকে লিখে বলো। তো সে লিখল। গভমেন্ট থেকে উত্তর দিয়েছে—যে ইনকামবেন্টকে অ্যাপ্লাই করতে হবে। বলল, ‘তোমাকে দিয়ে দেবে, অ্যাপ্লাই করো।’

বিষণ্নতা রোধে বিশেষ থেরাপি প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন অধ্যাপক এ কে আজাদ খান
ফাইল ছভি

 যা–ই হোক, আমি মনে করি যে প্রতিটি ইউনিভার্সিটি, নামকরা ইউনিভার্সিটি—তাদের স্বকীয়তা আছে। যেমন অক্সফোর্ড বা কেমব্রিজ আছে যে সেখানে চিন্তার বিকাশ হবে। ইনডিপেনডেন্ট চিন্তা করতে পারবে। যেমন আমার যারা শ্রোতা বা দেখছে যারা, তাদের উদ্দেশ্যেও বলছি, যে ইনডিপেনডেন্টলি চিন্তা করতে পারে না, সে অক্সফোর্ডের জন্য সুইটেবল না। কারণ, অক্সফোর্ডের যে ডক্টর প্রোগ্রাম, ওখানে লেখাই আছে যে আইডিয়া ক্যান্ডিডেটের হতে হবে। সেটা তাকেই করতে হবে। সুপারভাইজার ইজ জাস্ট টু হেল্প, টু গাইড। তো যে নিজের থেকে করতে পারে না, তার জন্য ওটা সুইটেবল না।  যা–ই হোক, আমি যেখানে কাজ করছিলাম, সেটা ওয়ার্ল্ডের লার্জেস্ট ক্লিনিক অব ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ, যেটাকে আলসারেটিভ কোলাইটিস বলি—ওটা ওয়ার্ল্ডের লার্জেস্ট কালেকশন ছিল। তো ওইখানে ওই বিষয়েই আমি সায়েন্টিফিক কাজ করতাম। মানে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ট্রেনিং তো আলাদা। সায়েন্টিফিক কাজ করতাম এবং তখন যে মেইন ওষুধ যেটা ছিল, ওই ওষুধে সেটা একটা কমপ্লেক্স মলিকিউল। সালিসিল এজো সালফাপিরিডিন। দুইটা মলিকিউলকে একটা কেমিক্যাল বন্ড...এজো বন্ড দিয়ে বাউন্ড হয়ে করা। সবাই কিন্তু তখন এই বিষয়টা নিয়ে ইন্টারেস্টেড—পৃথিবীব্যাপী। সবাই চেষ্টা করছে… ওষুধটা কীভাবে কাজ করে।

  আমি আমার সুপারভাইজারকে বললাম যে সবাই, যারা এটা চিন্তা করছে, তারা মৌলিক চিন্তা করছে না। সেটা হলো কীভাবে কাজ করে, এটা বের করতে পারবে না কেউ। কারণ, ওষুধের কারণটা জানা নেই। আমি তো দেখাতে পারি, এই কেমিক্যালটা এই কাজ করে, কিন্তু ওই কাজ যে চিকিৎসার জন্য প্রযোজ্য, তা তো নয়। তা তো জানতে হবে। …আমরা তখন যে কাজ করছিলাম, তো সেখানে আমরা দেখছি, এই দুইটা মলিকিউল যে হলো, এর মধ্যে এক টক্সিসিটি প্রধানত একটা মলিকিউলের জন্য, সালফাপিরিডিন মলিকিউল। আর তাহলে বাকিটা ক্যারিয়ার। মানে ওই ডিজিজের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার। যদি আমি বের করতে পারি কোন অংশটা ইফেকটিভ, তাহলে হয়তো অনেক বেটার ওষুধ তৈরি করা যাবে। এইটা হলো আমার হাইপোথিসিস।

  হাইপোথিসিস এবং ওই সময় অনেক পেপার পাবলিশড হয়েছে। তারা দেখিয়েছে যে সালফাপিরিডিন ওর লেভেলটা… যদি আলসার করে যে অ্যাটাক হয়ে যায়… তাহলে ওই লেভেল কমে যায়। তো তারা কনক্লুড করছে যে এইটাই অ্যাকটিভ সাবস্ট্যান্স। কারণ, ওইটা কমে গেলে অ্যাটাক হয়। তখন আমি চিন্তা করলাম এবং আমার সুপারভাইজারকে বললাম যে ওরা যে চিন্তা করছে, তার এক্সাক্টলি অপজিট হতে পারে। মানে, ওর ডায়রিয়া হয়েছে বলে কমে গেছে। কমে যাওয়ার জন্য ডায়রিয়া হয়নি। চিকেন অ্যান্ড এগ সিচুয়েশন। তখন আমরা দেখলাম যে আমাদের অনেক রোগী আছে, এইটা আমরা সলভ করে ফেলতে পারব। তো এইটা হলো ক্র্যাক। তখন আমরা সলভ করলাম। আমি এত ডিটেইলস বলতে চাচ্ছি না। 

আনিসুল হক:

 না দরকারও নেই, আমরা বুঝতে পেরেছি জিনিসটা। তারপরে এটা স্যার জার্নালে প্রকাশিত হয়ে গেল।

 এ কে আজাদ খান: হ্যাঁ, মানে এটার আর্টিকেলটা লিখি। আর্টিকেলটা ল্যানসেটে পাবলিশড হয়েছে। তো যখন লিখি, আর্টিকেলটা পেয়ে ল্যানসেট এডিটর নিজে ফোন করেছে। ফোন করে বলল যে এটা আমরা কোনো রিভিউয়ারের কাছে পাঠাচ্ছি না। একসেপ্টেড অ্যাজ সাচ এবং তখনই আমরা বললাম যে এটা অ্যাকটিভ মলিকিউল, অন্য ক্যারিয়ার দিয়ে দিলে মানে সাইড ইফেক্ট কমে মোর ইফেকটিভ। এখন সেটাই ব্যবহৃত হয়। আমরা ইচ্ছে করেই পেটেন্ট করিনি। তো পেটেন্ট করিনি কারণ এটা কনশাস ডিসিশন।

আনিসুল হক:

মানবতার স্বার্থে আপনি দিয়ে দিলেন।

এ কে আজাদ খান: যাহোক, কারণ আপনি পেটেন্ট করলে এর দাম অনেক বেড়ে যেত।

আনিসুল হক:

সারা জীবন অবশ্য আপনি টাকা পেতেন।

এ কে আজাদ খান: হ্যাঁ, তা পেতাম। তো তখন অক্সফোর্ডে আমার ডিপার্টমেন্টে আমার যে সুপারভাইজার ছিলেন, ওনার নাম হলো সিডনি চার্লস ট্রুলাভ। সিডনি চার্লস ট্রুলাভ এবং ওই ব্যক্তিটি ব্যক্তিগত জীবনেও লাইক ট্রু লাভ। ট্রু লাভ। একদম। আচ্ছা।

আনিসুল হক:

আচ্ছা স্যার, এখন আপনার স্ত্রীর নাম হচ্ছে ডক্টর কিশোয়ার আজাদ। বিয়ে হলো কত সালে?

এ কে আজাদ খান: ৭০ সালে।

আনিসুল হক:

’৭০। আর আপনি ১৯৮৯ সালে এই ডায়াবেটিক সমিতি, ইব্রাহিম, বারডেম—এগুলোর দায়িত্ব পেলেন।

অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ খান
ফাইল ছবি

 এ কে আজাদ খান: না না, আমি ডায়াবেটিক সমিতিতে আসার পর থেকেই ইনভলভড হয়ে গেছি। আমার স্ত্রী হলো ডক্টর ইব্রাহিমের ছোট মেয়ে।

আনিসুল হক:

তাহলে আপনি সমিতির সঙ্গে আগে থেকেই যুক্ত, প্রথম থেকেই যুক্ত নাকি?

এ কে আজাদ খান: হ্যাঁ, প্রথম থেকেই যুক্ত। কিন্তু আমি কোনো অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বা কোনো পজিশনে আসিনি। আমি যখন বিদেশ থেকে আসব, লিয়েনে আসার কথা হলো, ওখানে রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে। হুম। যদিও আমার শ্বশুর ডক্টর ইব্রাহিম স্যার খুব চেষ্টা করেছেন যে আমাকে নিয়ে আসতে। আমাকে মানে অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ইনভলভ হওয়ার জন্য। কিন্তু আমি হইনি। হইনি, যদিও আমি মনে করি সেটা হয়তো আমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ, পরবর্তীকালে যে অ্যাসোসিয়েশনে অনেক গোলমাল, টোলমাল হলো, আমি আগে ইনভলভ হলে হয়তো...

আনিসুল হক:

ইব্রাহিম স্যার মারা গেলেন কত সালে?

এ কে আজাদ খান: ’৮৯ সালে।

আনিসুল হক:

’৮৯। এরপর আপনি সভাপতি হলেন?

এ কে আজাদ খান: না না, আমি তো সভাপতি অনেক পরে হয়েছি। অনেক পরে হয়েছি, …ইনভলভ না থেকে বাইরে থেকে অ্যাডভাইস করতাম।

আনিসুল হক:

ওই ইতিহাসটা একটু বলবেন যে স্যার মারা গেলেন, তারপরে কে চালালেন, তারপরে আপনি কবে এলেন?

এ কে আজাদ খান: দেখুন, ডায়াবেটিক সমিতি তো একটা কি বলব, ডক্টর ইব্রাহিম প্রথম থেকেই আইডিয়া করেছেন একটা, সেটা হলো এক জাতীয় মেডিকো সোশ্যাল ওয়ার্ক। ইনফ্যাক্ট পৃথিবীতে সবখানে না, যেমন ইউকেতে মিনিস্ট্রি অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার আলাদা নেই, ওটা হেলথেই। হেলথ পার্ট অব দ্য হেলথ মিনিস্ট্রি। সুতরাং উনি যে ডায়াবেটিক সমিতি প্রতিষ্ঠা করলেন, সেটা কিন্তু রেজিস্টার্ড উইথ মিনিস্ট্রি অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বা সোসাইটি  রেজিস্ট্রেশন আরকি। উনি শুরু থেকেই মনে করছেন যে ডাক্তার হলে ভালো, কিন্তু ডাক্তারই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই, কাজটা তো সোশ্যাল ওয়ার্ক। সুতরাং যাঁদের নিয়ে উনি সমিতি ফর্ম করেছেন, তাঁরা ডাক্তার খুবই কম। বুঝলেন না? যেমন আলমগীর কবির সাহেব ছিলেন। দোশানি ছিলেন। সোলায়মান খান সাহেব ছিলেন। যাঁরা ছিলেন, তাঁরা ডেডিকেটেড সোশ্যাল ওয়ার্কার। রাইট। তো তারপরে উনি যখন ছিলেন তো ডায়াবেটিক সমিতিতে সেটআপ হলো যে সভাপতি হলো নট দ্য এক্সিকিউটিভ হেড। সভাপতি হলো হেড, বাট সে মোর লাইক … আলংকারিক এবং এক্সিকিউটিভ পাওয়ার লাইক উইথ দ্য সেক্রেটারি জেনারেল। ওনারা যত দিন বেঁচে ছিলেন, উনি তো বলতে গেলে সবাই তাঁর কাছে যেত। তো উনি মারা যাওয়ার পরে ডায়াবেটিক সমিতিতে একটা বিশাল এমপ্লয়িজ ট্রাবল হয়ে গেল। কারণ, এই ট্রাবলটার জন্য আমি কাউকে দোষ দেব না। কারণ, ট্রাবলটা হওয়ার কারণটা হলো এমপ্লয়িরা তখন আর ভরসা পাচ্ছে না। কারণ, যারা ছিল, তারা ওভাবে তো মেশেনি তাদের সঙ্গে। কারণ, ডক্টর ইব্রাহিম তো তাঁর একটা এমপ্লয়ি বাড়িতে খাওয়া হয়েছে কি না, এ খবরও রাখতেন। সেটা তো ছিল না তখন। এরা মুভমেন্ট করে পার্মানেন্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট করার জন্য এবং আমি শর্ট করেই বলছি। যে সেটা চলছে বেশ, আট-নয় মাস চলছে কিন্তু। বলতে গেলে অর্গানাইজেশন নষ্ট হয়ে যাওয়ার দশা। তখন আমি...

আনিসুল হক:

সেখান থেকে আপনি তো সাকসেসফুলি এই প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করালেন এবং আমরা তো খুবই সবাই বলি যে ফাউন্ডার চলে যাওয়ার পরেও যে প্রতিষ্ঠান টিকতে পারে, এই আমাদের ডায়াবেটিক সমিতি, তার প্রতিষ্ঠানগুলো, বারডেম হসপিটাল। এরপরে তো আপনি এটাকে বড় করছেন, এখন এখানে ইউনিভার্সিটি হয়েছে, মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি, মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে, নার্সিং কলেজ হয়েছে, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হয়েছে, অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান সুন্দরভাবে চলছে। স্যার, আপনার ম্যাজিকটা কী?

 এ কে আজাদ খান: আমাদের হলো যে ডক্টর ইব্রাহিম মারা গেলেন, অন্যরা অত ইনভলভ হয়নি। কিন্তু মানুষ তো অনেস্ট, ভালো মানুষ ছিল। বুঝলেন না? লিডারশিপ দিতে পারেনি কিন্তু ভালো মানুষ ছিলেন। সেটা তো একটা ক্যাপিটাল।

আনিসুল হক:

অনেস্টি একটা বড় ক্যাপিটাল। ভালো মানুষের সমাবেশ একটা ক্যাপিটাল।

এ কে আজাদ খান:  জি, সেই ক্যাপিটালকে বেজ করেই করা। ডক্টর ইব্রাহিম… আমি আবার আমার বিয়ের পর থেকে উই লিভড ইন দ্য সেম হাউস। ডক্টর ইব্রাহিম তাহলে কী বলতেন? উনি ওনার খুব… আমি তো ওই যে দুপুরে হয়তো বাসায় খেতাম। তো একটা হলো যে, উনি দুপুরের সময় আমাকে … কিন্তু রাতে আমি না আসা পর্যন্ত খেতেন না। অপেক্ষা করতেন, ওটা হলো ওনার ওয়ে অব কমপেলিং, যে আসতে হবে। সুতরাং আলাপ হয়ে যেত।

 তো উনি সব সময়ই বলতেন যে তুমি যে জয়েন করলে না, পস্তাবে একদিন। তুমি বলছ যে, তুমি জামাই, জয়েন করলে মানুষে কী বলবে! মানুষে কী বলবে এটাতে কী আসে যায়। যারা বলবে, তাদের বলব তোমার জামাইকেও দাও। সে তো দেয় না। কাজেই ওইটা শুনে তো আমার কাজ হবে না, আমার তো অর্গানাইজেশন করতে হবে। এই কথাটা ওনার জীবিতাবস্থায় আমি বুঝিনি। পরে আমি অনুধাবন করছি। তো যাহোক, পরে যে এক্সপ্যানশনগুলো হয়েছে এটা বলতে পারেন যে অর্গানিক গ্রোথ। কারণ ডিমান্ড বাড়ছে, চলছে।

 আমি আমার এক্সাম্পল বলি। আমরা যে কার্ডিয়াক সেন্টার করলাম, যেটা এখন সবাই মনে করে খুব সাকসেসফুল কার্ডিয়াক সেন্টার। কারণ কার্ডিয়াক সেন্টার আরও অনেক হয়েছে, আমি কারও নাম নিচ্ছি না। কিন্তু এই দেশে এমনকি ধনী লোকেরাও সফিস্টিকেটেড লোকেরাও এখানে কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন করেন। করতে পারেন বাইরে না গিয়ে। শুধু তা–ই নয়, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টারে কিন্তু বাইরের থেকেও লোক আসে করে। লন্ডন থেকেও লোক আসে করে কারণ সস্তা হয়। তো ওনার নাম হলো তো এই যে জিনিসগুলো করা প্রয়োজন হলো, কারণ ডায়াবেটিস হলে তো তার হার্টের অসুখ বেশি হয়। ওটা তো অটোমেটিক্যালি এসে যায়। এভাবেই কিন্তু গ্রো করছে।

আনিসুল হক:

এখন স্যার একটু জনস্বার্থে কতগুলো টিপস আমরা আশা করি। আমি একজন মানুষ, ১৮ বছর, ২০ বছর, ২৫ বছর, ৩০ বছর, ডায়াবেটিস আমার হয়েছে কি হয়নি এ বিষয়ে আমার খেয়াল থাকে না। অনেক পরে একদিন টেস্ট করে দেখলাম যে অনেক। তো মানুষের, সাধারণভাবে প্রত্যেক মানুষের ডায়াবেটিস সচেতনতার কতগুলো টিপস দেন। প্রথমে কী করা উচিত? টেস্ট করা উচিত? এর বাইরে আপনি খাদ্য এবং জীবনপ্রণালি, হাঁটা, ব্যায়াম করা, ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ বিষয়ে একটু টিপস দেন।

এ কে আজাদ খান: ডায়াবেটিস তো প্রধানত দুই রকম—টাইপ ১, টাইপ ২। তো টাইপ ১ মানে তারা টোটালি ইনসুলিন ডিপেনডেন্ট। মানে তাদের শরীরে ইনসুলিন নেই। এখন ইনসুলিন হচ্ছে এমন একটা হরমোন, যেটা বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। এটা বোঝানোর জন্য আমি বলি যে সব হরমোন তো সুস্থ থাকার জন্য দরকার, কিন্তু সব বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য নয়। যেমন আগে আমরা চাষ করতে বলদ বানাতাম না? তো ও তো ক্যাসট্রেট করে দিত না? তাই না? ষাঁড়কে তো আর পোষ মানানো যায় না। হুম, বলদ বানাত। বলদ বানালে কি সেটা, সে গরুটা কি মরে যায়? না। তাই না? কাজেই সব হরমোন বেঁচে থাকার জন্য জরুরি না। তাহলে ওর তো টেস্টোস্টেরন নেই। তাহলে এই টেস্টোস্টেরন বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য নয়। এটার শরীরে ঘাটতি হবে তার। হ্যাঁ। কিন্তু ইনসুলিন হলো বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। ইনসুলিন না থাকলে আপনি তারে ফুঁ দেন, ফা দেন, ওষুধ দেন, যা দেন ইনসুলিন না দিলে সে মরে যাবে। তো এটা কিন্তু ফরচুনেটলি আমাদের দেশে টাইপ ১ ডায়াবেটিস শতকরা ৫–এরও কম।

  এখন যে এপিডেমিকটা হচ্ছে, সেটা প্রধানত টাইপ ২ ডায়াবেটিসের জন্য। যেটা শুরুতে ইনসুলিন ডিপেনডেন্ট নয়। এবং এই টাইপ ২ ডায়াবেটিস কিন্তু ৭০ থেকে ৮০ ভাগ সম্পূর্ণ প্রিভেন্টেবল।

তাহলে প্রিভেনশন করলে কী...

   বহু ফ্যাক্টর আছে ইনভলভ। জেনেটিক ফ্যাক্টর আছে, এটা আছে, ওটা আছে। সোজা কথায় বলতে গেলে দুইটা বললেই হয়ে গেল। একটা হতে একটা জেনেটিক টেন্ডেন্সি থাকতে হবে, তারপর এনভায়রনমেন্টাল ইফেক্ট হতে হবে। যেমন বোঝানোর জন্য বলছি, একটা লোকের জেনেটিক টেন্ডেন্সি আছে, সে যদি মুটিয়ে যায়, তাহলে হয়ে যাবে। কিন্তু যার একেবারেই জিনের মধ্যে নেই, সে মুটিয়ে গেলে অন্য অসুখ হবে কিন্তু ডায়াবেটিস হবে না। কারণ, ওর জিনের মধ্যে থাকতে হবে। তাহলে পরে এই যে আছে তাহলে মুটিয়ে যাওয়া বা ফিজিক্যাল পরিশ্রমের কাজ না করা বা এক্সারসাইজ না করা।

আরও পড়ুন

এটা তো মডার্ন লাইফের মধ্যে এসে গেছে। তাই না? এখন তো মানুষে মানে আমরা যখন হান্টার গ্যাদারার ছিলাম, তখন তো ডায়াবেটিস হবে কেমন করে? নিজেরই তো খাদ্য উৎপাদন করতে হতো, ফিজিক্যালি করতে হতো। বা শিকার করে খেতে হতো। তাই না? ফিজিক্যালি ইন–অ্যাক্টিভ হলে সে বাঁচবে না। এখন এই যে মডার্ন লাইফে এসে এখন ব্রেন ব্যবহার করে টাকা দিয়ে বাজারে পাঠালে সব কিনতে পাওয়া যায়। তাই না? আমার খুব মজার গল্প বলছি। আমার সুপারভাইজারের নাতি একজন । তো ডক্টর ট্রুলাভের নাতিকে জিজ্ঞেস করলাম দুধ কোত্থেকে আসে? কয় ফ্রম দ্য সুপারমার্কেট। কারণ, ও তো আর গরুর দুধ দোহন করতে দেখেনি। তো এখন কথাটা হলো যে আমরা জানি কী করলে প্রিভেন্ট হবে। এবং আমরা প্রিভেনশন করার চেষ্টাও করছি। কিন্তু ইফেক্টিভ হচ্ছে না। তা কী বলে? ডাক্তারেরা বলে বা হেলথ ওয়ার্কাররা কী বলে? তারা বলে যে আমরা তো বলিই যে সে মানুষের কথা শোনে না। ঠিক না কথাটা? ঠিক আছে।

  আপনাদের কাগজের লোক, আপনারাও তো লেখেন। কথা শোনে না তো।

  এই কথাটার মধ্যে একটা ফাঁক আছে। এই যে কথা শোনে না, এটা সত্য না। সেটা হলো কী? একটা কথা আছে না যে পাগলেও নিজের ভালো বোঝে? হুম। সে শুনবে না কেন?

  এখন এর পরিবর্তে অপজিট আপনি চিন্তা করেন। সিগারেট যে ক্ষতিকর, জানে না এমন কোনো অ্যাডাল্ট লোক আছে? নেই। আর সিগারেট যে প্রথম টানটা দেওয়া খুব আনপ্লেজেন্ট। যারা একবার টান দিছে, প্রথম টানটা আনপ্লেজেন্টও খুব। তাহলে একটা আনপ্লেজেন্ট টু স্টার্ট উইথ আর ক্ষতিকর আমি জানি তো সেটা সিগারেট কোম্পানি ওটা ধরায় কী করে? ওর কথা কেন শোনে? তখন আমার মাথায় এল যে ও জানে কী বললে ওর মানুষের হুকড হবে। সেটা ওরা কিন্তু এমনি বের করেনি, রিসার্চ করে, পয়সা খরচ করে বের করছে। অথচ আমরা ওই লাইনে রিসার্চ করিনি। করিনি এবং ওই লাইনে রিসার্চ করাটা খুবই ইম্পর্টেন্ট বিষয় তাহলে।

আনিসুল হক:

হ্যাঁ স্যার, আপনি বলছিলেন যে কী বললে শুনবে সেভাবে বলতে হবে।

 এ কে আজাদ খান: জি। তখন আমার মাথায় এল যে কীভাবে জিনিসটাকে মানুষকে প্রভাবিত করা যায় আমরা চেষ্টা করে দেখি। তো সে জন্য তখন কিন্তু আমি অনেক অনেক কিছু করেছি। যেমন স্পেশাল গান রচনা করিয়েছি। হুম। ফোক সং রচনা করিয়েছি। এবং যেমন তেমন ব্যক্তি না। সৈয়দ হককে দিয়েও করিয়েছি। গান। যেটা যেখানে পাবলিক সমাগম হয়, সেখানে ওই গানগুলো দিয়ে দিলে পরে পাবলিক শুনবে।

আনিসুল হক:

স্যার, আপনি বলছিলেন যে অক্সফোর্ডে গবেষণার মধ্যে আপনি একদম ফান্ডামেন্টাল নতুনভাবে চিন্তা করলেন ওইটা একটা, আর এখানে ডায়াবেটিস...

এ কে আজাদ খান: হ্যাঁ, এটায় আমি আসছি। ওটাতে একটু আসি।

  তখন আমি দেখলাম যে মুসলমান ধর্মে কিন্তু হেলদি লিভিং বা ডিজিজ প্রিভেনশনের ওপরে খুব স্ট্রং মেসেজ আছে। ধর্মেই মেসেজ আছে। যেমন এক্সাম্পল বলছি যে ইসলাম ধর্মে আছে তুমি উদর পূর্তি করে আহার করিয়ো না। ওয়ান থার্ডের বেশি খেতে যেয়ো না । তা সেটা যদি শতভাগ ফলো করে, তাহলে ওবেসিটি কমে যাবে, তাই না? তাহলে একজন গুড মুসলমানের কাছে আপিল করা যায়। আরও হলো আমাদের ধর্মে তো একটা আছে যে সপ্তাহে একদিন মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজ আদায় করতে হয়।  সেখানে একটা খুতবা হয়। খুতবাতে তো একজন গুড মুসলমানের কী করা উচিত, এটা বলার কথা আরকি। খুতবাতে তা–ই বলার কথা। তখন আমি মনে করলাম, এইটা কুড বি একটা চেষ্টা করে দেখা যাক। সাইকোলজিস্ট আল্লামা আলী আল হাক সাহেব আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। আমি ওনাকে অ্যাপ্রোচ করলাম যে আপনি এই জিনিসটা একটা খুতবা তৈরি করে দেন বিজ্ঞ আলেমদের দিয়ে। উনি করিয়ে দিলেন। ঢাকা শহরে যাঁরা রিয়েলি নলেজেবল, তাঁদের দিয়ে উনি করিয়ে দিলেন। তখন আমি সেটাকে আল আজহারে পাঠালাম। অথেনটিকেট করে দেওয়ার জন্য। তাহলে ফেইথ বেশি হবে। তারপর কাবার ইমামদের কাছে পাঠালাম। তাঁরা অথেনটিকেট করে দিলেন।

 তখন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে গেলাম যে আপনার ইমামদের দিয়ে এটা খুতবাতে বলাতে পারেন কি না। তখন বলল ওই দিন প্রথম যেদিন গেছি, ওই দিন ওখানে ৫০০ ইমাম ছিল, ওদের মিটিং হচ্ছে। তাহলে আপনি বলেন। আমি বললাম ওরা সব রাজি। রাজি হলো যে বলবে কিন্তু তাদের ট্রেনিং লাগবে। আমরা ট্রেনিংও দিয়ে দিলাম। আপনি বলছেন এটা দিলাম তখন দেখা প্রথম যখন করলাম দেখা গেল যে ৪৫% রিডাকশন অব ইনসিডেন্ট ডায়াবেটিস হয়েছে। হয়েছে এবং আমাদের জানামতে পাবলিশড রেকর্ডে ৪৫% এত হাই আর নেই।

আরও পড়ুন
আনিসুল হক:

এখন আমাকে বা আমার সন্তানকে তিনটা করণীয় বলেন। এটা করবেন, এটা করবেন, এটা করবেন না।

 এ কে আজাদ খান: প্রথমটা হলো যে ফিজিক্যালি অ্যাকটিভ থাকতে হবে। সে যেভাবেই হোক। কারণ ঢাকা শহরে কথা বলছি যে আপনি ১০ তলা ফ্ল্যাটে থাকেন। লিফট খারাপ হয়ে গেল, নিচে নামতে পারছেন না। তাহলে আপনি ওখানেই করবেন, স্কিপিং করবেন। সুস্থ থাকতে গেলে, সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে গেলে ফিজিক্যালি অ্যাকটিভ থাকতে হবে।

আনিসুল হক:

ফিজিক্যালি অ্যাকটিভ থাকা এক নম্বর। দুই?

 এ কে আজাদ খান: দুই নম্বর হলো আপনি অতিরিক্ত আহার করবেন না। ডায়েট প্যাটার্নটা ঠিক থাকবে। এই দুটি কম্বিনেশন ঠিক রাখলে কিন্তু ডায়াবেটিস ৮০%...

আনিসুল হক:

 ডায়াবেটিস তো স্যার অনেক রোগের...

আরও পড়ুন

 এ কে আজাদ খান: হাইপারটেনশন। হাইপারটেনশনেরও। শুধু তা–ই নয়, আমি মনে করি যে এই যে ওয়ার্কআউট করলাম আপনার...

আনিসুল হক:

কিডনি, লিভার—এগুলোতেও স্যার চাপ পড়ে নাকি? কিডনিতে তো ডেফিনেটলি।

 এ কে আজাদ খান: ডায়াবেটিস এমন একটা রোগ, যেটা শরীরের সবকিছুকে এফেক্ট করে। কারণ, এটা ফান্ডামেন্টাল মেটাবলিজম এফেক্ট হয়ে যাচ্ছে তো। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন আমাদের বলা হতো যে সিফিলিস ভালো করে জানো তো সব মেডিসিন শেখা হয়ে যাবে। কারণ ইট এফেক্টস অল সিস্টেম। এখন হলো ডায়াবেটিস ভালো করে জানো তো সব মেডিসিন শেখা হয়ে যাবে। এটা ট্রু কিন্তু।

আরও পড়ুন
আনিসুল হক:

 আচ্ছা, আর এখন দ্বিতীয় প্রশ্নটা হচ্ছে সরকারকে কি কোনো পরামর্শ দেবেন? আপনারা তো একটা কমিশন করেছিলেন এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে, আপনি তো এটার হেড ছিলেন স্যার, না?

 এ কে আজাদ খান: আমরা কমিশন করিনি, সরকার কমিশন করেছে। কমিশন বানিয়েছে মানে, আমি বলব যে ওর হেড হওয়ার দায়িত্ব ফেল অন মি (আমার ওপরে পড়েছিল)। আমি তো চেয়ে হইনি। আমি মনে করি, কমিশনে সরকার ভালো লোকদের দিয়েছিল। তারা কিন্তু খুব প্যাশনেট ছিল। এভরিবডি ওয়াজ স্টিকিং টু হিজ পয়েন্ট। কিন্তু আলটিমেটলি তারা কিন্তু কেম টু কনসেনসাস। আমরা বহু লেখাপড়া করে রিকমেন্ড করছি এবং এটা ইমপ্লিমেন্টেবল। এটা হলে পরে এই বাজেটেও মানুষের হেলথের বিরাট চেঞ্জ করা যাবে।

আনিসুল হক:

সরকারকে একটা টিপস দেন, নতুন একটা গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে, আপনি স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বলেন যে এটা করেন।

আরও পড়ুন

এ কে আজাদ খান: আমি দুইটা জিনিস বলি। এক নম্বর হলো যে হেলথ যে আছে এটাকে ডিসেন্ট্রালাইজ করে ফেলেন। সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে আছে। আটটি ভাগে ভাগ করেন— খুব ভালো পরামর্শ এটা।

 দ্বিতীয় হলো যে ট্রান্সফারেবল লোকদের দিয়ে কি ডিপার্টমেন্ট গ্রো করা যায় নাকি? যায় না তো। সুতরাং টিচিং পোস্টগুলো শুড বি এগেইনস্ট পোস্ট। এটা ট্রান্সফারেবল হওয়া উচিত না। তাহলে তো ডিপার্টমেন্ট গ্রো করবে না।

আনিসুল হক:

জি স্যার, দুইটা ভালো পরামর্শ। স্যার, আমরা শেষ করে ফেলব, আর কি কিছু আপনি বলতে চান?

 এ কে আজাদ খান: না, আমি ওই যেটা বলছিলাম, শেষ সুযোগের জন্য বলছি। তখন এই যে আমরা করেছি, কমিশন। যে গবেষণাটা করলাম সেটা রিমার্কেবল এফেক্ট (হয়েছে)। তখন আমি এটা খুব নামকরা একটা জার্নাল ল্যানসেট অনলাইনে সাবমিট করি।  কিন্তু ল্যানসেট আমাকে জানাল যে এটা খুবই ভালো আর্টিকেল, কিন্তু ল্যানসেটের জন্য সুইটেবল না। তো আমি একটু বিস্তারিত করেও বলি, আমার ধারণা হলো যে মুসলমান মৌলভিদের দিয়ে করেছি তো, এটাও পাবলিশ করতে চাইছে না। তখন আমি এটা ওর চেয়ে যে হায়ার ইমপ্যাক্ট আরেকটা আমেরিকান জার্নালে পাঠিয়েছি। আমেরিকান জার্নাল, আমেরিকান জার্নাল অব মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। তারা এটা পাবলিশ করে দিছে। আচ্ছা, পাবলিশের সুযোগ করে দিয়েছে। এখন এটা ওআইসিতে প্রেজেন্ট করেছি আমি। তারা ইন্টারেস্ট নিয়ে বলেছে, এটা অল ওআইসি কান্ট্রিতে করা উচিত। তো আমরা এই ৬ আগস্টে এটার ডিসেমিনেশন করব এবং সেখানে কিন্তু সব ধর্মের লোকদের ডাকব। ফেথ বেজড লিডারদের দিয়ে আমরা এফেকটিভলি করতে পারি। আমি মনে করি এটা খুব ইম্পর্টেন্ট। ডব্লিউএইচও আমাদের অ্যাপ্রোচ করতে হয়নি, ডব্লিউএইচও এটা তাদের ওয়েবসাইটে অলরেডি দিয়ে দিছে। এই আর্টিকেলটা এবং ৬ আগস্টে আমরা ডিসেমিনেশন করতে যাচ্ছি।

আনিসুল হক:

 ঠিক আছে স্যার, আমরা অনেক কথা বললাম। সুধী দর্শক, আমরা এতক্ষণ আমাদের একজন শীর্ষস্থানীয় ভাবুক, চিকিৎসক, কর্মী, সংগঠক এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার একজন মহিরুহ ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ খানের কথা শুনলাম, তাঁর এই অভিজ্ঞতার গল্প। নিশ্চয়ই আমাদের নতুন প্রজন্মকে এবং আমাদের পুরো বাংলাদেশকে আমি বলব বাংলাদেশের বাইরেও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে, আলোকিত করবে, অনুপ্রাণিত করবে। আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলব, স্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ গড়ে তুলব এবং একটা সুন্দর–সুস্থ পৃথিবীও গড়ে তুলতে পারব ভবিষ্যতে—এই আশাবাদ রেখে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন।