ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অবরোধ নিয়ে আজ বেলা ১১টার দিকে ফেসবুকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তারপরই অবরোধ প্রত্যাহার করেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।

চবি ছাত্রলীগের যে অংশ অবরোধ ডেকেছিল, তারা ক্যাম্পাসে মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

শাখা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ‘বিজয়’ উপপক্ষের নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, তাঁরা যে কমিটিতে পদ পাননি, তা শিক্ষা উপমন্ত্রী জেনেছেন। তাই তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীরকে জানানোর জন্যই অবরোধ ডাকা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো উত্তর দিতে চাননি দেলোয়ার।

মহিবুল হাসান চৌধুরী তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, ছাত্রসংগঠনের পদপদবি বিষয়ে কোনো দাবিদাওয়া থাকলে সংগঠনের যেকোনো কর্মী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। কোনো সাংগঠনিক দাবি থাকলে সেটি সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে সমাধান করা যায়। কিন্তু সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করা, ভাঙচুর করা, অপহরণ করা, অপরাধের হুমকি দেওয়া, হত্যার হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই ছাত্রসংগঠনের আদর্শিক কর্মীর কাজ হতে পারে না। যাঁরা এসব করছেন, তাঁরা ব্যক্তিস্বার্থেই অরাজকতা করছেন। তাঁদের কাছে সংগঠন বা শিক্ষার মূল্য আছে বলে মনে হয় না। নিজেদের সাংগঠনিক দাবিতে অপরাধমূলক সহিংসতা যাঁরা করছেন, তাঁদের বিষয়ে সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিবুল হাসান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নাম ব্যবহার করে যাঁরা উপদল করেন, সংগঠনের মধ্যেও যাঁরা সংগঠন করেন বা অন্য কারও নাম ব্যবহার করে যাঁরা উপদল করেন, এটা তাঁদের জন্য বার্তা। সাংগঠনিক কোনো বিষয় থাকলে তাঁদের জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি, সম্পাদক রয়েছেন। তিনি তো আর ছাত্রলীগ করেন না। তিনি ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রকও নন। তাঁর নামে কোনো পক্ষ হোক, সেটা চান না। সেটাও কাম্যও নয়। এগুলো সরাসরি অপরাধমূলক কাজ।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, যাঁরা পদের দাবিতে ভাঙচুর করবেন, বিক্ষোভ করবেন, তার মানে সেই পদের মধ্যে নিশ্চয়ই তাঁর কোনো প্রাপ্তি আছে। সেই পদ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে তিনি চাকরির কোটা ব্যবহার করবেন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করার চেষ্টা করবেন। কারণ, ছাত্রলীগের পদে তো কোনো বেতন নেই।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, কারও যদি সাংগঠনিক কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে তাঁরা সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা কী করেছেন? তাঁদের ভোগান্তি কেন? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তিনি কঠোর হতে বলেছেন।

গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর চবি শাখার ৩৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে।

কমিটি ঘোষণার পরই পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪টি হলের প্রায় ৩০টি কক্ষ ভাঙচুর করেন। এদিন রাতেই চবির মূল ফটক আটকে দিয়ে অবরোধের ডাক দেন তাঁরা। বিক্ষুব্ধরা নেতা-কর্মীরা নতুন শাখা কমিটি গঠনের দাবি জানান।

অবরোধ চলাকালে গতকাল সোমবার সকালে ক্যাম্পাসগামী শাটল ট্রেনের চালককে অপহরণ করা হয়। এ কারণে বন্ধ থাকে শাটল ট্রেন। এদিন চলেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বহনকারী বাস। তাই গতকাল চবিতে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। এ অচলাবস্থা আজও অব্যাহত থাকে। এ অবস্থায় আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

চবি শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষে বিভক্ত। একটি পক্ষে আছেন সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারীরা। আরেকটি পক্ষে আছেন সাবেক সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীরা।

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে রয়েছে ১১টি উপপক্ষ। এর মধ্যে বিজয় ও চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) মহিবুলের, বাকি নয়টি উপপক্ষ নাছিরের অনুসারীদের।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন