সিলিন্ডারের সঙ্গে তিতাসের গ্যাসেরও সংকট, দুর্ভোগ
রাজধানীর কিছু কিছু এলাকায় পাইপলাইনে সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ দীর্ঘদিন ধরেই কম ছিল। এর মধ্যে আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় চুলাই জ্বলছে না।
সেই সব এলাকার একটি রাজধানীর শেখেরটেক। সেখানকার ১১ নম্বর সড়কে বাস করেন আহমদ উল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত তাঁর বাসায় সকাল সাতটার পর থেকে গ্যাসের চাপ কমতে থাকে। দুপুরে একেবারেই থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলছিল। আমিনবাজারে দুর্ঘটনার পর গ্যাস একদমই নেই।
ঢাকায় রান্নার জ্বালানির উৎস মূলত দুটি—তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস। অন্যটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রি করা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), যা সাধারণত সিলিন্ডারে বিক্রি করা হয়। সংকট চলছে দুই ক্ষেত্রেই। আমদানি কম হওয়ায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে বাজারে এলপিজির সরবরাহ কমে গেছে। মানুষ দোকানে দোকানে ঘুরে গ্যাস পাচ্ছে না। পেলেও ১ হাজার ৩০৬ টাকার ১২ কেজির এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়।
ঢাকায় রান্নার জ্বালানির উৎস মূলত দুটি—তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস। অন্যটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রি করা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), যা সাধারণত সিলিন্ডারে বিক্রি করা হয়। সংকট চলছে দুই ক্ষেত্রেই।
দুই ধরনের গ্যাসের সংকট একসঙ্গে শুরু
দু্ই ধরনের গ্যাসের সংকট একসঙ্গে শুরু হওয়ায় অনেক জায়গায় মানুষ রান্না করতে পারছেন না। যাঁরা সচ্ছল, তাঁরা বৈদ্যুতিক চুলা কিনে নিচ্ছেন। কেউ কেউ রাইস কুকারে ভাত রান্না করে তরকারি রেস্তোরাঁ থেকে কিনে আনছেন। তবে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। তাঁদের পক্ষে বৈদ্যুতিক চুলা অথবা রাইস কুকার কেনা কঠিন। তাঁদের কেউ কেউ আপাতত চুলা তৈরি করে রান্না করছেন, যেখানে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিতাসের গ্যাসের চাপ কম থাকা এলাকার মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুর, মিরপুর, জিগাতলা, খিলগাঁও, বাড্ডা, নাখালপাড়া ইত্যাদি। রাজধানীর দোলাইরপাড়ে এক নারী গতকাল শুক্রবার নিজের বাসার সামনে চুলায় কাঠ পুড়িয়ে রান্না করছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনোরকমে চুলা ও কাঠ জোগাড় করে রান্না করছেন। লাইনে গ্যাস নেই। সিলিন্ডারও পাওয়া যাচ্ছে না।
তিতাসের হিসাবে, ঢাকায় বাসাবাড়িতে দিনে ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস দরকার। চাহিদার সমান গ্যাস সাধারণত সরবরাহ করা হয়। তবে অবৈধ সংযোগে গ্যাসের একটি বড় অংশ চলে যায়। এ কারণে কিছু এলাকায় চাপ কম থাকে। উল্লেখ্য, গ্যাস-সংকটের কারণে ২০০৯ সালের ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে নতুন আবাসিক গ্যাস-সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঢাকায় নতুন যত ভবন হয়েছে, সেখানে এলপিজি ব্যবহার করা হয়। তবে অবৈধভাবে ঢাকা ও আশপাশে অনেক সংযোগ নেওয়া হয়েছে।
তিতাসের গ্যাসের চাপ কম থাকা এলাকার মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুর, মিরপুর, জিগাতলা, খিলগাঁও, বাড্ডা, নাখালপাড়া ইত্যাদি।
আমিনবাজারে দুর্ঘটনা
আমিনবাজারে দুর্ঘটনাটি ঘটে ৪ জানুয়ারি। তিতাস বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হয়েছে। তবে মেরামতকালে পাইপে পানি প্রবেশ করে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস দুঃখ প্রকাশ করেছে।
তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) কাজী সাইদুল হাসান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি নেই; বরং আগের চেয়ে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। তবে পাইপলাইনে পানি থাকায় গ্যাস পেতে কোথাও কোথাও সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় বেশি সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, ধীরে ধীরে পানি বের করা হচ্ছে। পানি পুরোপুরি বের করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
তিতাস সূত্র বলছে, মোহাম্মদপুরের কারও কারও বাসার ভেতরের গ্যাসলাইনে পানি চলে এসেছে। যাঁরা এ সমস্যায় পড়েছেন, তাঁদের নিজ দায়িত্বে মিস্ত্রি এনে পানি পরিষ্কার করাতে হবে। তিতাস বাসার ভেতরের লাইনের কাজ করে না।