আজ বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবপুর গ্রামে নিহত ছাত্রদল নেতা নয়ন মিয়ার (২৬) শোক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর সালে আপনাদের সেই দুঃশাসন বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু ভুলে নাই। ৯৬ থেকে ২০০১, আপনাদের অপশাসন বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু ভুলে নাই। ভোট কারচুপি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে ২০০৮ সালে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। তারপর থেকে বিনা ভোটে মধ্যরাতে নির্বাচন করে নির্লজ্জের মতো ক্ষমতা আঁকড়ে আপনারা বসে আছেন। আপনারা মনে করেন এর জবাব দিতে হবে না। সব হিসাব আমরা নিব। সব ঘটনার জবাব দিতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কেন গত ১৪ বছর আমার হাজার হাজার ভাইকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে? বিনা দোষে শুধু বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী হওয়ার কারণে মিথ্যা মামলায় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক একটা সমাবেশস্থল দেখেন জনসমুদ্র। বাঞ্ছারামপুরের সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবপুর সমাবেশকে দেখেন, আপনাদের ঢাকার সমাবেশ থেকেও এখানে বেশি মানুষ হয়েছে।’

সমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে নিহত নয়ন মিয়ার পরিবারকে দুই লাখ টাকা তুলে দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ ছাড়া  দলের পক্ষ থেকে নিহত নয়নের পরিবারের সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা, স্ত্রী–সন্তানসহ সবার ভরণপোষণ ও পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া হয়।

সমাবেশে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক সায়েদল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য রফিক শিকদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি কাজী নকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাঈফ মাহমুদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী, সদস্যসচিব এ কে মোছা, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত শনিবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত হন নয়ন মিয়া। তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চরশিবচর গ্রামের রহমত উল্লাহর বড় ছেলে। নয়ন সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি ও চরশিবপুর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।