ভাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন (আলগী ও হামিরদী) পরিষদকে ফরিদপুর–২ সংসদীয় আসন থেকে মুছে দিয়ে ফরিদপুর–৪–এ যুক্ত করতে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) করা লিভ টু আপিল খারিজ হয়ে গেছে। ইসির পক্ষ থেকে লিভ টু আপিল না চালানোর (প্রত্যাহার) কথা জানালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ সোমবার এ আদেশ দেন।
ফলে ফরিদপুর-২ ও ফরিদপুর-৪ আসন সীমানা আগের মতোই থাকল। আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ভিন্ন আসনে ভোটার হতে হচ্ছে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন সীমানা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে গত ৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের-৪ আসনের অধীন আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে জুড়ে দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এতে আপত্তি তুলে প্রতিবাদে নামেন আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন দুটির বাসিন্দারা। এর মধ্যে ইসির গেজেট চ্যালেঞ্জ করে আসন্ন নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল (বর্তমানে প্রার্থী) এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান দুলালসহ পাঁচজন গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এরপর ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। তাতে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসি গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদ ফরিদপুর–৪ সংসদীয় আসনে যুক্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত বছরের ২১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। চেম্বার আদালত হয়ে আবেদনটি আজ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে।
আদালতে ইসির পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মো. হাবিবুর রহমান এবং রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব শুনানিতে ছিলেন।
পরে ইসির আইনজীবী হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পর নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে। হাইকোর্টের রায় অনুসারে ফরিদপুর–২ ও ফরিদপুর–৪ আসন আগের সীমানায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। যে কারণে লিভ টু আপিলটি না চালানোর সিদ্ধান্তের কথা আদালতকে জানানো হয়। আদালত এর পরিপ্রেক্ষিতে লিভ টু আপিলটি প্রত্যাহারের আদেশ দেন।
‘ফলে ফরিদপুরের ওই দুটি আসন আগের সীমানা অনুসারে পুনর্বহাল হলো; অর্থাৎ আগের সীমানায় ফরিদপুরের ওই দুটি আসনে ভোট হবে,’ বলেন তিনি।