গ্রেপ্তার বেনজীরকে নিয়ে ভুয়া তথ্যও ছড়াচ্ছে

কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকস

সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে কিছু ভুয়া তথ্যও ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

বেনজীর আহমেদকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, এমন খবর যেমন ছড়াচ্ছে; আবার তাঁর হাতকড়া পরা ছবিও ঘুরছে ফেসবুকে।

বাংলাদেশে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগের মামলায় ফেরারি বেনজীর আহমেদ ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বলে গত রোববার সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তার এক দিন পরই ‘ডেইলি নিউজ দিলরুবা’ নামে একটি ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেনজীর আহমেদকে ছেড়ে দিয়েছে দুবাই পুলিশ। প্রায় ছয় লাখ অনুসারীর পেজটিতে পোস্ট করা ভিডিওতে একজন নারীকে এই বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

লিংক: এখানে

আজ মঙ্গলবার প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ১৭ লাখ বার দেখা হয়েছে। এটি শেয়ার হয়েছে ছয় হাজারের বেশি বার, এতে ৫৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছে। পোস্টের নিচে মন্তব্য জমা হয়েছে এক হাজারের বেশি, যেখানে অনেকের এই তথ্যে বিভ্রান্ত হওয়া বিষয়টি প্রকাশ যায়।

একই দিনে ‘ডেইলি আজকের কণ্ঠ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ‘ব্রেকিং নিউজ’ লিখে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে। সেখানে লেখা ছিল, ‘জরুরি সংবাদ: ছেড়ে দেওয়া হলো সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে।’ এই ফটোকার্ডটি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যও তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

তবে এই পোস্টগুলোয় এই তথ্যের কোনো উৎস বা হয়নি। নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমেও বেনজীর আহমেদের ছাড়া পাওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি ছিল। সেই রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করে।

প্রথম লিংক

বেনজীর আহমদকে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একটি অনুরোধপত্র চূড়ান্ত করে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরও জানিয়েছেন, দেশে ফিরিয়ে আনা হলে বেনজীর আহমেদকে ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলাগুলোতেও হাজির করা হবে।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর বেনজীর আহমেদের পক্ষে দুবাইয়ে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে চলমান মামলাগুলোর নথিপত্রও সেখানে পাঠানো হয়েছে।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

ফলে বেনজীর আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, এমন তথ্যের ভিত্তি পাওয়া যায়নি। বরং, প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে, তিনি এখনো আমিরাত পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

এদিকে বেনজীর আহমেদকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তারের যে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে, যাচাই করে দেখা যাচ্ছে, সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।

আবার কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বেনজীর আহমেদের নামে ইন্টারপোলের যে রেড নোটিশ প্রচার করা হয়েছে, সেটি ভুয়া। ইন্টারপোলে ৫৯ বাংলাদেশির নামে রেড নোটিশ আছে, তাঁদের মধ্যে বেনজীরের নাম নেই।

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলাদেশিদের তালিকায় বেনজীর আহমেদের ছবি ও নাম দৃশ্যমান নয়, তা ঠিক আছে। তবে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে এ কথাও বলা আছে, অধিকাংশ রেড নোটিশ শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশের অনুরোধে এবং যখন কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে জনসাধারণের সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে অথবা যদি ওই ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, তখন রেড নোটিশের অংশবিশেষ প্রকাশ করা হয়।

লিংক:

এর আগে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর ফেসবুকে একাধিক পেজ থেকেও খবরটি ভুয়া বলে দাবি করা হয়।