আজ বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নিজামুল হক ভূইয়া। বর্তমানে সমিতির কার্যকর পরিষদের ১৫টি পদের মধ্যে ১৪টিতেই দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগপন্থী নীল দলের শিক্ষকেরা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। এতে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবগঠিত কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামসহ ১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ারকে হামলায় নেতৃত্ব দিতে দেখা গেলেও হামলার ঘটনাকে ‘ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যা দিয়েছে ছাত্রলীগ।

হামলার পর গতকাল সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের ডাকা সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের পাতানো ফাঁদ। আওয়ামী ভিসি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রক্টরের প্ররোচনায় ছাত্রদলের ওপর নারকীয় হামলা হয়েছে৷...এই বর্বর, অমানবিক ও কাপুরুষোচিত আচরণের জবাব তারা পাবেন।’

রিজভীর এই বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া একটি অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত অশালীন, আপত্তিকর ও নিন্দনীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গত তিন দশকের বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে ২০১৯ সালে সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সক্ষম হয়েছেন। নিজেদের অপকর্মের দায়ভার নিয়ে বিতাড়িত ছাত্রসংগঠনকে ক্যাম্পাসে তাদের রাজনীতিচর্চার সুযোগ করে দিয়েছেন। অথচ বিএনপি নেতা রিজভী উপাচার্য ও প্রক্টরকে অশালীন ভাষায় হুমকি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বিএনপি নেতা রিজভী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্যকে “চাকর-বাকর” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁর নিজের রুচি ও সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়। রিভজী যেভাবে হুমকি দিয়ে কথা বলেছেন, তা নিকট অতীতে ক্যাম্পাসে “লাশ ফেলে” রাজনীতির মাঠ গরম করার টেলিফোন সংলাপের কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়৷ আমরা রিজভীর এ ধরনের অশালীন বক্তব্য ও হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’