প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি নেতারা সব সময় রিজার্ভের টাকা খরচ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘রিজার্ভের টাকা থেকে কোনো অর্থ অপব্যবহার হয় না। বিএনপি নেতারা সব সময় বিষয়টি নিয়ে কথা বলে। কারণ, তাদের নেতা তারেক রহমানকে মানি লন্ডারিং মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তিনি এখন পলাতক আসামি।’

বিএনপির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের আমি বলতে চাই, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন রিজার্ভ ছিল মাত্র ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সময়ে এটি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার হয়। সেই জায়গা থেকে আমরা এই রিজার্ভ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হই।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে যোগাযোগ, যাতায়াত, আমদানি থেকে শুরু করে সবকিছুই প্রায় বন্ধ ছিল। আর যখনই যোগাযোগব্যবস্থা উন্মুক্ত হয়, তখন আমাদের আমদানি করা, পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার জন্য ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থের বাড়তি জোগান ও রিজার্ভ থেকেই দিতে হচ্ছে। তারপরও বাংলাদেশের মতো বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন প্রদান এবং করোনা টেস্টের ব্যবস্থা, যেটা পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশও করতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম, পরিবহন খরচ, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, গম, ভুট্টাসহ যেসব পণ্য আমদানি করতে হয়, তার দাম বেড়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ চাল উৎপাদন করলেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু কিছু আমদানি করতে হচ্ছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা যেটুকু খরচ করেছি, তা জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে। জনগণের খাদ্য কেনা, ওষুধ কেনা, জনগণের মঙ্গলের জন্যই করতে হয়েছে। সার, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ আমাদের ক্রয় করতে হচ্ছে, নগদ টাকা দিয়ে আমরা কিনছি। তা ছাড়া আমাদের রিজার্ভের টাকা দিয়ে আমরা কিন্তু বিমান ক্রয় করেছি। নদী ড্রেজিং যেমন নিজেদের অর্থে করছি, তেমনি কিছু কিছু বিনিয়োগও আমরা করছি।’

তিনি বলেন, এই টাকা যদি তাঁর সরকার অন্য দেশের ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিত, তাহলে সুদসমেত টাকা পরিশোধ করতে হতো। আর আমাদের ব্যাংক থেকে দিলে যেটা সোনালী ব্যাংক থেকে আমরা দিচ্ছি, তাহলে ওই সুদসমেত টাকা দেশের টাকা দেশেই থেকে যাচ্ছে এবং সেদিকে লক্ষ রেখেই প্রায় ৮ বিলিয়নের মতো আমরা খরচ করছি। এখান থেকে কিছু ডলার শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক দুরবস্থায় ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।’
শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘কাজেই এখানকার টাকা কেউ তুলে নিয়ে চলে যায়নি, যেটা তাদের মনে সব সময় ভয় থাকে, তারা ওই রকম বলে।’ কাজেই মানি লন্ডারিং যাদের অভ্যাস, তারা খালি এটাই জানে যে টাকা বোধ হয় সব নিয়েই যেতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।