মার্কিন ভিসা বন্ড
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার
মার্কিন ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি সফররত বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।
জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জেমিন গ্রিয়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খলিলুর রহমান। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এ সময় ইউএসটিআরকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিসহ ব্যবসা বাড়াতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দেশটিতে ভ্রমণ এর মধ্যেই বেড়েছে। বাণিজ্যঘাটতি দূর করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ব্যবসা বাড়াতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের বিষয়টি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। তাই বাংলাদেশকে মার্কিন ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত করার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করতে জেমিন গ্রিয়ারকে তাঁর অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান খলিলুর রহমান।
খলিলুর রহমান পাঁচ দিনের সফরে গতকাল সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছান। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খলিলুর রহমান ওয়াশিংটন ডিসিতে জেমিসন গ্রিয়ার ছাড়াও সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।
শুল্ক কমানোর প্রস্তাব
ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর অগ্রগতি তাঁকে (জেমিসন গ্রিয়ার) অবহিত করেন খলিলুর রহমান।
আলোচনায় খলিলুর রহমান বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে বাণিজ্যঘাটতি কমাতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তা ছাড়া চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এরই মধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে খলিলুর রহমান বর্তমানে কার্যকর থাকা ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক (রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ) কমানোর প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে দেন। জেমিসন গ্রিয়ার এই প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
একই সঙ্গে জেমিসন গ্রিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়—এমন পোশাকপণ্যের ওপর আরোপিত মার্কিন পারস্পরিক শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন বলে জানান।
উভয় পক্ষ দ্রুত কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তির ব্যাপারে একমত হয়, যাতে পারস্পরিক শুল্কচুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত ও কার্যকর করা যায়।
এ ছাড়া খলিলুর রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি তহবিলে প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধও করেন।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার এসব বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।