সন্ধ্যায় বন্ধ হয় সোনার দোকান

প্রথম আলো ফাইল ছবি
প্রথম আলো ফাইল ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরে এখন ডাকাত–আতঙ্কে দিন কাটছে সোনা ব্যবসায়ীদের। গত সাড়ে তিন বছরে এখানে সোনার দোকানে তিনটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা এবং বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার সোনার গয়নার দোকানে ডাকাতি হয়।

আতঙ্ক শুধু ডাকাতি আর মালামাল লুটকে কেন্দ্র করেই ছড়ায়নি, ককটেল ও গুলি ছুড়ে যে কায়দায় ডাকাতিগুলো ঘটেছে, তা আরও বেশি আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে সোনা ব্যবসায়ীদের মনে। এসব ডাকাতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন।

এ পরিস্থিতিতে শ্রীপুর উপজেলার অধিকাংশ স্বর্ণালংকারের দোকান এখন সন্ধ্যা হলেই বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ পর্যন্ত সংঘটিত কোনো ডাকাতির তদন্তে কিছুই উদ্ধার করা হয়নি। গত শুক্রবারের ডাকাতির ঘটনায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ বলছে, অভিযান চলছে।

গত রোববার সরেজমিনে সোনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার উপজেলার জৈনাবাজারে লক্ষ্মী জুয়েলার্স ও দ্য নিউ দিপা জুয়েলার্স নামে দুটি দোকান ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গুলি ও ককটেল ছুড়ে দোকানগুলোর মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। যাওয়ার সময় দোকানের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে যায় তারা। ডাকাতিতে বাধা দিতে গেলে গুলিবিদ্ধ হন দ্য নিউ দিপা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী দেবেন্দ্র কর্মকার। তিনি এখনো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

>

শ্রীপুরে ডাকাত আতঙ্ক
সাড়ে তিন বছরে তিনটি ডাকাতি ও বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে
ডাকাতের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী

এ ঘটনার ৩ বছর ৪ মাস আগে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসের সেই দিনটিও ছিল শুক্রবার। উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় ওই দিন সন্ধ্যায় বিকট শব্দে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশের বিপণিবিতান। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে ইয়াকুব আলী মাস্টার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার সংগীতা জুয়েলার্সের সাড়ে ৩০০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায় ডাকাত দল। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন দোকানমালিকের ছেলে সুব্রত দাসসহ আরও চারজন। সেদিনও গুলি করে ও উড়ালসড়কের ওপর থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল ডাকাতেরা।

গত বছরের ২১ জানুয়ারি শ্রীপুর বাজারে অন্তি অরুণ শিল্পালয়ে হানা দেয় ১০-১৫ জনের একটি ডাকাত দল। এ সময় তারা বাজারের পাহারাদারদের বেঁধে ধারালো অস্ত্র ধরে জিম্মি করে রাখে। দোকানের সামনের সড়কের এক পথচারীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এরপর দোকান লুট করা হয়।

এই সময়ের মধ্যে মাওনা চৌরাস্তার ইয়াকুব আলী মাস্টার মার্কেট ও ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারে দুটি সোনার দোকানসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

ইয়াকুব আলী মাস্টার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার সোনা ব্যবসায়ী সুব্রত দাস বলেন, বর্তমানে তাঁরা আতঙ্কে আছেন। নিজের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতের গুলিতে আহত হয়েছিলেন তিনি। এখনো সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ডাকাতির ঘটনায় মামলা করেছি। অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। মালামাল উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন বছর চলে গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাল্টেছে, দপ্তরও পাল্টেছে। কিন্তু কাউকেই গ্রেপ্তার করা যায়নি। গত শুক্রবারের জৈনাবাজারের ঘটনার পর থেকে সব ব্যবসায়ী আরও বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।’

গত শুক্রবারস্বর্ণালংকারের দোকান লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা। তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

২০১৬ সালের স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি থানা-পুলিশের কাছ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন শ্রীপুর থানার এসআই আজহার। সিআইডিতে হস্তান্তর করার পর মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন পরিদর্শক মহিউদ্দিন আহমেদ। পরবর্তী সময় এর তদন্তভার পড়েসিআইডির তৎকালীন আরেকপরিদর্শক জাফর ইকবালের ওপর। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া। গত সেপ্টেম্বরে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে মামলার তদন্তকারী নিযুক্ত হয়েছেন সিআইডির এসআই সোহেল চন্দ্র সরকার।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলীপ্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ নিয়োজিত আছে। শুক্রবারের ঘটনার পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকায় আরও বেশি তৎপর রয়েছে।