মাগুরায় শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু
এক বছরের বেশি সময় আগে মাগুরার আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথরেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) থেকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার এ শুনানি শুরু করে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ শুনানি গ্রহণ করেন। প্রথম দিনের মতো শুনানি নিয়ে আদালত বিষয়টি আংশিক শ্রুত (আংশিক শুনানি হয়েছে) হিসেবে রেখেছেন।
এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি হাইকোর্টে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট ওই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। গঠিত বেঞ্চটি গত ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনতে গঠিত বেঞ্চে মাগুরার আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যার ওই মামলার আজ শুনানি শুরু হলো।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক পেপারবুক থেকে উপস্থাপন করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পেপারবুক থেকে মামলার এজাহার, ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুর মেডিক্যাল রিপোর্ট, ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। শুনানি নিয়ে আদালত বিষয়টি আংশিক শুনেছেন হিসেবে রেখেছেন। পরবর্তী শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
মাগুরায় আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যার এই মামলায় গত বছরের ১৭ মে রায় দেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়।
অন্যদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। এই আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ১ জুলাই হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ে তাঁকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়।
মাগুরার শিশুধর্ষণ ও হত্যার সেই ঘটনা
গত বছরের মার্চের শুরুর দিকে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল ওই শিশু। এরপর ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর সাত দিন পর ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে গত বছরের ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং গত বছরের ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। গত বছরের ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। গত বছরের ৬ মার্চ ঘটনার দিন থেকে গণনা করলে ৭৩ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত।
ফৌজদারি কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত। দণ্ডিত আসামি রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল, আপিল ও বিবিধ আবেদন করতে পারেন। সাধারণত ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের জেল আপিল, আপিল ও বিবিধ আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে। শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) প্রস্তুত করতে হয়। এতে মামলার এজাহার, অভিযোগ গঠন, সাক্ষীদের বক্তব্য, বিচারিক আদালতের রায়সহ বৃত্তান্ত সন্নিবেশিত থাকে।
বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) ও দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামির করা জেল আপিল ও আপিলের ওপর এখন হাইকোর্টে শুনানি শুরু হলো।