গত ১৯ অক্টোবর ‘ব্যয় কমাতে শিশুদের নাশতা বন্ধ’ শিরোনামে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন পর ২০ অক্টোবর মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর নিজেদের ওয়েবসাইটে অর্ধেক বরাদ্দ দিয়ে অর্থাৎ জনপ্রতি ১৫ টাকা করে নভেম্বর থেকে নাশতা চালু করা হবে বলে জানায়।

তা নিয়ে ‘শিশুদের নাশতা বহাল হচ্ছে, তবে অর্ধেক বরাদ্দেই’ শিরোনামে ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। ৪ নভেম্বর থেকে এই বরাদ্দের নাশতা দেওয়া শুরু নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো।

এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর আগের বরাদ্দেই অর্থাৎ জনপ্রতি ৩০ টাকা বরাদ্দ দিয়ে শিশুদের নাশতা চালুর ঘোষণা দেওয়া হলো।  

‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন’ প্রকল্পের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ ছিল জনপ্রতি ৩০ টাকা। গত জুলাই থেকে শিশুদের নাশতার বরাদ্দ অর্ধেক করা হয় এবং ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শিশুদের নাশতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৩০ টাকা বরাদ্দ থাকার সময় শিশুদের মৌসুমি ফল, খেজুর, কেক, দুধ, পাউরুটি দেওয়া হতো।

জুলাই থেকে বরাদ্দ অর্ধেক কমে যাওয়ায় ফল বাদ দিয়ে শুধু দুধ-পাউরুটিতে নেমে আসে নাশতা, পরে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। নাশতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্লাবগুলোয় শিশুদের আসার সংখ্যাও কমে গিয়েছিল বলে জানা যায়। কোনো ক্লাবে উপস্থিতি নেমে আসে ১৫ জনে, কোনোটায় ৫ থেকে ৭ জনে।

সারা দেশে ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন ও ৩৩০টি পৌরসভার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাব পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি ক্লাবে ৩০ জন করে কিশোর-কিশোরী সদস্য রয়েছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আবৃত্তি, গান ও কারাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রান্তিক কিশোর-কিশোরীদের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সক্ষম করার বিষয়ে সচেতন করাও এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। ৫৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত।