default-image

রাজধানীর গুলশানে বাড়ির সামনে অবস্থান করা দুই বোন ও তাঁদের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সম্পত্তির দাবি-সংক্রান্ত কাগজপত্র হলফনামা করে ৯ নভেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে ওই দুই বোনের নিরাপত্তায় ৯ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত রাখতে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুলশানের ওই বাড়িতে দুই পক্ষের শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনেরা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই যেতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন।

‘গুলশানে বাড়ির সামনে দুই বোনের অবস্থান’ শিরোনামে গত ২৫ অক্টোবর প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এটিসহ আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে গত ২৬ অক্টোবর স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।

সেই আদেশে অবিলম্বের দুই বোনের বাড়িতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সেদিন রাতেই দুই বোন মুশফিকা ও মোবাশ্বেরাকে বাড়িতে উঠিয়ে দেয় পুলিশ। পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশে দুই বোনের নিরাপত্তায় ওই বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

২৬ অক্টোবর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশে দুই বোন ও তাঁদের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুরকে ৩ নভেম্বর (আজ) সকালে আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়। সে অনুযায়ী তাঁরা আজ আদালতে উপস্থিত হন।

আজ আদালতে দুই বোনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আঞ্জু কাপুরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ রেজা সোবহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক। তিনি গুলশান থানার ওসির দেওয়া প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত ৯ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ রেখেছেন।

বিজ্ঞাপন

২৫ অক্টোবর প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, গুলশান-২-এ ৯৫ নম্বর সড়কের ওপর প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর বাড়িটি অবস্থিত। গৃহকর্তার মৃত্যুর পর মালিকানা নিয়ে বিরোধে তাঁর দুই মেয়ে অবস্থান নেন বাড়ির সামনে। তাঁরা দাবি করেন, বাড়ির দখল বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুরের হাতে। তিনি কিছুতেই ওই বাড়িতে তাঁদের ঢুকতে দিচ্ছেন না।

অবশ্য এ বিষয়ে গৃহকর্তা মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের ছোটবেলার বন্ধু ও আইনজীবী মো. ওয়াজিউল্লাহর আলাদা ভাষ্য দেন। ১০ অক্টোবর মোস্তফা জগলুলের মৃত্যুর পর আঞ্জু কাপুরকে আইনগত সহযোগিতা তিনিই দিচ্ছেন। তখন তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, আঞ্জু কাপুর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আস্থার সংকট থেকে তিনি বাড়ির দরজা খুলছেন না।

মন্তব্য পড়ুন 0