default-image

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে আসার পর বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নেওয়া হয়েছে তাঁর গুলশানের বাড়িতে। কাল তাঁকে জন্মস্থান নোয়াখালীতে দাফন করা হবে।

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকতা ​শেষে তা গ্রহণ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় আবেগাপ্লুত মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের এই সংকটময় মুহূর্তে, গণতন্ত্রের সংকটকালে তাঁর (মওদুদ আহমদ) চলে যাওয়া দেশের জন্য, বিএনপির জন্য বড় ক্ষতি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর মতো মানুষ খুব কম আসেন।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মওদুদ আহমদ একজন উদার গণতান্ত্রিক মানুষ ছিলেন এবং আজীবন তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম ​করেছেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ভাষা আন্দোলন করেছেন। তিনি অনেক কষ্ট করেছেন, তাঁর বাড়িটা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ দেশের চরম অগণতান্ত্রিক পরিবেশে ৩২টি মামলা নিয়ে তাঁকে চলে যেতে হলো।

১৬ মার্চ সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথে চিকিৎ​সাধীন অবস্থায় মওদুদ আহমদ মারা যান। গত ১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সেখানে মওদুদের পাশেই ছিলেন স্ত্রী হাসনা জসীমউদদীন মওদুদ। তিনিও স্বামীর মরদেহের সঙ্গে ঢাকায় ফিরেছেন। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ রাত আটটায় গুলশানের বাসায় নেওয়া হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মওদুদ আহমদের মরদেহ রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। কাল শুক্রবার সকাল নয়টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। এরপর সকাল ১০টায় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে, বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মওদুদ আহমদের জানাজা হবে। তারপর মরদেহ নেওয়া হবে মওদুদ আহমদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মানিকপুরে। সেখানে বাদ জুমা কবিরহাট সরকারি কলেজ মাঠ ও বিকেল চারটায় কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজ মাঠে দুটি জানাজা হবে। মানিকপুরে শেষ জানাজার পর তাঁকে সেখানেই দাফন করা হবে।

মওদুদের মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ, মো. শাহজাহান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক, আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, শামীমুর রহমান, তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।

বর্ষীয়াণ নেতা মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে আজ শোক কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। প্রয়াত এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

৮১ বছর বয়সী মওদুদ আহমদ রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। অনেকগুলো বইও লিখেছেন তিনি। তিনি পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীনের জামাতা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একাত্তরে ইয়াহিয়া খানের ডাকা গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মওদুদ আহমদ। মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকার তাঁকে পোস্টমাস্টার জেনারেল ঘোষণা করেছিল।

বিজ্ঞাপন

আইন পেশা ও রাজনীতির বাইরে মওদুদ আহমদের লেখক সত্তাও ছিল। সমকালীন রাজনীতি নিয়ে তাঁর লেখা বইগুলো সচেতন পাঠকমহলে বেশ আলোচিত ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতির নানা ঘটনাপ্রবাহের সত্য বয়ান নিজের বিভিন্ন বইয়ে উপস্থাপন করেছেন তিনি। এ নিয়ে নিজ দল বিএনপিতেও নানা সময়ে তাঁকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

মওদুদ আহমদের জন্ম ১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি নেন। পরে দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য হন। এরপর আরও পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

জিয়াউর রহমানের সরকারে মন্ত্রী ও পরে উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন মওদুদ। এরপর এইচ এম এরশাদ সরকারের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি জাতীয় পার্টি থেকে আবার বিএনপিতে ফেরেন। সর্বশেষ ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন