আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত ১৩ অক্টোবর শাহবাগ থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৪ জনকে সাত দিন করে মোট ১৪ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। ওই রিমান্ড আবেদন বিষয় শুনানির জন্য আজ রোববার দিন ঠিক করেছিলেন আদালত। এদিন কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে না আসায় রিমান্ড শুনানি হয়নি। পরে আগামী ২০ অক্টোবর শুনানির নতুন দিন ঠিক করেন আদালত।  

গত ৭ অক্টোবর বিকেলে ‘আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ’-এর ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মরণসভার আয়োজন করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সেখানে ছাত্রলীগ হামলা করে তাদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। হামলায় পরিষদের অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে গিয়েও তাঁদের পেটায় ছাত্রলীগ। বিকেলে হাসপাতাল থেকে পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করে শাহবাগ থানার পুলিশ।

পরে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের নামে দুটি মামলা করেন ছাত্রলীগের দুই নেতা। দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন সকালে ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৪ নেতা-কর্মীদের আদালতে পাঠায় শাহবাগ থানার পুলিশ।

মামলার আসামিরা হলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, পরিষদের নেতা সাদ্দাম হোসেন, জাহিদ আহসান, তাওহীদুল ইসলাম, এইচএম রুবেল হোসেন, ইউসুফ হোসেন, তসলিম হোসাইন, আব্দুল কাদের, মিজান উদ্দিন, তরিকুল ইসলাম, আবু কাউছার, মোয়াজ্জেম হোসেন, সানাউল্লাহ, মামুনুর রশিদ, নাজমুল হাসান, রাকিব, আরিফুল ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, বেলাল হোসেন, ওমর ফারুক জিহাদ, শাহ ওয়ালিউল্লাহ, রাকিব ও সাজ্জাদ হোসেন ।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আবরারের বাবা চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা-কর্মী।