খিলক্ষেতে তিনজনকে গাড়িচাপা, চালক দুই দিনের রিমান্ডে

বেপরোয়া গাড়ির চাপায় নিহত শিশু ইয়াছিন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর খিলক্ষেতে যাত্রীছাউনিতে গাড়িচাপায় শিশুসহ তিনজন নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে খিলক্ষেত এলাকা থেকে নাবিদ আল বিশাল নামের ওই চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

বুধবার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত যাত্রীছাউনির সামনে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ লোকজনের ওপর উঠে যায় ল্যান্ডক্রুজার গাড়িটি। এই ঘটনায় আট বছরের শিশু ইয়াছিনসহ (৮) তিনজন নিহত হন। মারা যাওয়া অন্য দুজন হলেন উজ্জ্বল পাণ্ডে (২৮) ও আমরিনা হক (৪৪)।

ওই ঘটনায় আহত শিশু ইয়াছিনের বাবা সুমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর বুধবার রাতেই গাড়িটি জব্দ করা হয়। তবে চালক পালিয়ে যান।

পুলিশ বলেছে, ল্যান্ডক্রুজার গাড়িতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের স্টিকার লাগানো ছিল। তবে তারা জানতে পেরেছে, সাইফুল্লাহ মোস্তফা ও মুন্না নামের দুই ব্যক্তি গাড়িটির মালিক। নাবিদ আল বিশাল তাদের ব্যবসায়িক অংশীদার। সেই হিসেবে তিনি গাড়িটি ব্যবহার করতেন। নিজেকে তিনি সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়েছেন।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল বাশার বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর নাবিদ পুলিশকে বলেছেন, তাঁর মাথায় সমস্যা আছে। গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ তিনি ‘সাডেন ব্ল্যাকআউট’ হয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে সেটি লোকজনের ওপর উঠে যায়।’

আরও পড়ুন

সন্তানের মৃত্যুর খবর জানেন না বাবা

শিশু ইয়াছিন ছিল মা–বাবার একমাত্র সন্তান। মা–বাবার সঙ্গে রায়েরবাজারে থাকত সে। বাবা সুমন মিয়া পেশায় রাজমিস্ত্রি ও মা শিখা বেগম গৃহিণী। সুমনের বাবা মফিজুল ইসলাম খিলক্ষেতের নামাপাড়া এলাকায় একটি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কথা হয় মফিজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুমন বুধবার রাতে ভুনাখিচুড়ি ও পিঠা নিয়ে খিলক্ষেতে আমার বাসায় এসেছিল। পরে শিশুসন্তান নিয়ে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরার জন্য খিলক্ষেত কাঁচাবাজার সংলগ্ন যাত্রীছাউনিতে ছেলের হাত ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় বেপরোয়া গতির গাড়ি উঠে চাপা দিলে ইয়াছিন মারা যায়। এতে সুমনের হাত ও পায়ের একাধিক স্থান ভেঙে গেছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমন বলেন, একটি গাড়ি যাত্রীছাউনিতে উঠে যায়। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁর মনে নেই।

ছেলের মৃত্যুর কথা জানানো হয়নি সুমনকে। জানতে চাইলে সুমনকে বলা হয়েছে, ইয়াছিন বাসায় আছে, সুস্থ আছে।