নিহত মামুন হাওলাদার পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যও। তাঁর সঙ্গে সিদ্দিকুর, তাঁর ভাই কামাল এবং ভাতিজা আসাদুলের পারিবারিক কারণে বিরোধ ছিল। ২০১১ সালে মামুনের এক আত্মীয় ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় সিদ্দিকুরের ভাই কামাল এবং ভাতিজা আসাদুলের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য মামুন বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় কামাল ও আসাদুল গ্রেপ্তার হন।

র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ধর্ষণের মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁরা মামুনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পনা শুরু করে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মামুনের সঙ্গে সিদ্দিকুর ও কামালের বিভিন্ন সময় বাগ্‌বিতণ্ডা  হয়। এই শত্রুতার জের ধরে সিদ্দিকুরের নেতৃত্বে কামাল, আসাদুল এবং তাঁদের আরও কয়েকজন সহযোগী মিলে মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সিদ্দিকুর, কামাল, আসাদুল এবং সজল জমাদ্দারসহ বেশ কয়েকজন মোল্লারহাট বাজারে সিদ্দিকুরের অফিসে বসে হত্যার নীলনকশা তৈরি করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী মামুনকে কৌশলে মোটরসাইকেলে করে উত্তর ভিটাবাড়িয়ার একটি স্থানে নিয়ে আসার দায়িত্ব দেওয়া হয় সজল জমাদ্দারকে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনার দিন ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন মামুন। পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক সজল জমাদ্দার মামুনকে ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাঁর মোটরসাইকেলে তোলেন। আর রওনা দেওয়ার কথা সিদ্দিকুরকে কৌশলে জানান সজল। মামুনকে নিয়ে সজল উত্তর ভিটাবাড়িয়া আজহারিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার কাছাকাছি এসে পৌঁছালে সিদ্দিকুরের নির্দেশে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কামাল, আসাদুল এবং অন্যান্য সহযোগীরা রাস্তায় গাছ ফেলে মোটরসাইকেলটির গতিরোধ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মামুনকে হত্যা করে পালিয়ে যান।