গতকাল মঙ্গলবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সভায় কর্মসূচি ঠিক করা হয়েছে। সেই কর্মসূচিতে অবশ্য বড় কোনো চমক নেই। ফুল দিয়ে বরণ, মিষ্টিমুখ—প্রচলিত এসবই থাকছে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম জানিয়েছেন, ‘বিমানবন্দরে মেয়েদের ফুল দিয়ে বরণ করা হবে। মিষ্টিমুখ করানো হবে তাদের। তারপর ছোট্ট একটা প্রেস ব্রিফিং। এসব শেষ করে ছাদখোলা বাসে মেয়েদের বাফুফে ভবনে আনা হবে।’

বিমানবন্দর থেকে মেয়েদের বহনকারী বাস কাকলী, জাহাঙ্গীর গেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিজয় সরণি, তেজগাঁও, মৌচাক, কাকরাইল, আরামবাগ, মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে যাবে বাফুফে ভবনে। ভবনে মেয়েদের বরণ করবেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাদখোলা বাসে কোনো ক্রীড়া দলকে সংবর্ধনা দেওয়া বাংলাদেশে এটাই প্রথম। ১৯৯৭ সালে জাতীয় ক্রিকেট দল আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ার পর তাদের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিমানবন্দর থেকে দল শহরে এসেছিল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসে।

বিআরটিসি সূত্র জানিয়েছে, সাবিনাদের বরণ করে নিতে বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসের ছাদ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই বাসে চড়েই বিমানবন্দর থেকে ফুটবলারদের বাফুফে ভবনে নিয়ে আসা হবে। গতকাল দিনভর ছাদ সরিয়ে ফেলার এই কাজ চলে। রাতে এই কাজ শেষ হওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ করা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে তা বুঝিয়ে দেয় বিআরটিসি। এরপর বাসটিতে সাজসজ্জার কাজ করা হয়।

বিআরটিসি সূত্র জানিয়েছে, অশোক লেল্যান্ড কোম্পানির দ্বিতল বাসটির ছাদ এবং তিন পাশ খুলে ফেলা হয়েছে। সেখানে স্টেইনলেস স্টিলের (এসএস) রেলিং ও বক্স বসানো হয়েছে। দোতলার সামনের দিকে এবং মাঝখান থেকে ১৪টি আসন তুলে নেওয়া হয়েছে, যাতে ফুটবলাররা দাঁড়িয়ে ফুটবলপ্রেমীদের অভিবাদনের জবাব দিতে পারেন। ২৮টি আসন রেখে দেওয়া হয়েছে তাঁদের বসার জন্য। বাসটির নিচতলায় অবশ্য কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

সাজসজ্জা বলতে পুরো বাসই ডিজিটাল ব্যানারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে খেলোয়াড়দের বিশেষ মুহূর্তের ছবি রাখা হয়েছে। বাসের সামনের অংশটা ফুলের তোড়া দিয়েও সাজানো হয়েছে।

যেভাবে ছাদখোলা বাসের ধারণা

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের সঙ্গে ফাইনালের আগে নারী ফুটবল দলের তারকা কৃষ্ণা রানী ফেসবুকে ছাদখোলা বাসে শিরোপা উদ্‌যাপনের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘এমন মুহূর্তের অপেক্ষায়।’

ফাইনালে খেলতে নামার আগে সানজিদা আখতার ফেসবুকে লেখেন, ‘যাঁরা আমাদের এই স্বপ্নকে আলিঙ্গন করতে উৎসুক হয়ে আছেন, সেই স্বপ্নসারথিদের জন্য এটি আমরা জিততে চাই। নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিদান আমরা দিতে চাই। ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনীকে এক পাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের জন্য এটি জিততে চাই। আমাদের এই সাফল্য হয়তো আরও নতুন কিছু সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া পেতে সাহায্য করবে। অনুজদের বন্ধুর এই রাস্তাটুকু কিছু হলেও সহজ করে দিয়ে যেতে চাই।’

কৃষ্ণা-সানজিদারা আজ যখন দেশে ফিরবেন, বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকবে ছাদখোলা বাস। তাঁদের অভিনন্দন জানাতে সড়কের দুই পাশেও হয়তো থাকবেন সাধারণ মানুষ। যে অভিনন্দনের জবাব নারী ফুটবলাররা ছাদখোলা বাস থেকেই দিতে পারবেন।

সোমবার ম্যাচ শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সাবিনাদের আক্ষেপ দেখে আমাদের অন্তরে ব্যথা লেগেছে। আমাদের দেশে যদিও ছাদখোলা কোনো বাস নেই; তারপরও আমরা তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা করেছি। তাদের ছাদখোলা বাসে বিমানবন্দর থেকেই সংবর্ধনা আমরা দেব। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবন পর্যন্ত তাদের আমরা নিয়ে যাব। তাদের মনের আশা পূরণ করব।’

বিআরটিসির সূত্র জানায়, নারী ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ফুটবলারদের ছাদখোলা বাসের আকাঙ্ক্ষা মেটানোর পরিকল্পনা নেয়। সেই রাতেই যোগাযোগ করা হয় বিআরটিসির সঙ্গে। বিআরটিসি কোনোরকম দ্বিধা না করেই সংস্থার একটি বাসের ছাদ কেটে ফেলে নারী ফুটবল দলের দেশে ফেরার উদ্‌যাপন রাঙাতে তৎপর হয়। বিআরটিসির মতিঝিল ডিপোর একটি দ্বিতল বাসের ছাদ কাটা শুরু হয় গতকাল সকাল থেকে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নারী ফুটবল দল জাতিকে একটা বড় উপহার দিয়েছে। জাতি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা তাদের উদ্‌যাপনে সঙ্গী হতে পেরে গর্বিত।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন