ভয়াবহতা সামলে এগিয়ে যাওয়ার এই মানসিকতা অনুপ্রেরণার: জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানেছবি: প্রথম আলো

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা সামলে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা যে সাহস, দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাওয়ার এই মানসিকতা ভবিষ্যতের সব সংকট মোকাবিলায় সাহস জোগাবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জুবাইদা রহমান। ‘২১ জুলাই মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা–২০২৬’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজক বার্ন ইনস্টিটিউট।

গত বছরের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ২৮ শিক্ষার্থী, ৩ জন শিক্ষক, ৩ জন অভিভাবক, ১ জন আয়াসহ মোট ৩৫ জন নিহত হন। এ ছাড়া যুদ্ধবিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর দগ্ধ–আহত ব্যক্তিদের বার্ন ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ এই দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো।

বার্ন ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থী–শিক্ষক–অভিভাবক–কর্মচারী এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নাম–ছবি দিয়ে তৈরি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন জুবাইদা রহমান। পরে তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে মাইলস্টোন ট্রাজেটিতে নিহত শিক্ষার্থী–শিক্ষকদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, আজ এমন একটি দিন, যেদিন দেশ ও জাতি গভীরভাবে শোকাহত, মর্মাহত। আকস্মিক ও ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় সবাই হতভম্ব ও নিরুপায় হয়ে পড়েছিলেন। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি সমগ্র জাতি সমবেদনা জানাচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, তা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন জুবাইদা রহমান। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে আহত শিক্ষার্থী–শিক্ষকদের মনোবল সবার জন্য প্রেরণার উৎস বলে উল্লেখ করেন তিনি। জুবাইদা রহমান বলেন, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরও তাঁরা যে সাহস ও সংকল্প নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, জাতি তা কোনো দিন ভুলবে না। এই কষ্টের মধ্যেও তাঁরা যে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যদের অনুপ্রেরণাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁদের জীবনের ভবিষ্যতের সংকটময় মুহূর্তগুলো মোকাবিলায় সাহস জোগাবে। একই সঙ্গে অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, বিপদে সহযোগিতার মানসিকতা আরও দৃঢ় করবে।

জুবাইদা রহমান বলেন, তাঁদের সাহস, দৃঢ়তা, মানবিকতা ও নিঃস্বার্থ সহযোগিতা জাতির জন্য অনুসরণীয়। ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতি এখনো ভীতিকর হলেও শঙ্কা ও ভয়কে জয় করে তাঁরা যেভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য তাঁদের প্রতি দেশবাসী কৃতজ্ঞ।

সেই সময় উদ্ধার, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সহায়তায় এগিয়ে আসা ব্যক্তিদেরও ধন্যবাদ জানান জুবাইদা রহমান। তিনি ফায়ার সার্ভিস, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও বার্ন ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

জুবাইদা রহমান বলেন, সংকটময় মুহূর্তে অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কষ্টের মধ্যেও যে সাহসিকতা, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের নিদর্শন বিশ্ব দেখেছে, তা ইতিহাসে বিরল। নিজের জীবনের চেয়ে অন্যের জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানুষকে বাঁচানোর যে চেষ্টা সেদিন দেখা গেছে, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মানবতার এই উদাহরণ প্রসঙ্গে জুবাইদা রহমান বলেন, অন্যের জন্য এগিয়ে আসতে হলে ভয়কে জয় করতে হয়। মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় যাঁরা মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা প্রমাণ করেছেন—‘মানুষের জন্য মানুষ’।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডোনার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি, চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন সহযোগী দেশের রাষ্ট্রদূত ও চিকিৎসকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন