রুবিনাকে চাপা দেওয়া গাড়ির চালক সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদ

গাড়ির চাকার নিচে হতভাগ্য রুবিনা আক্তার। চালকের আসনে নির্বিকার ঘাতক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রুবিনা আক্তার নামের এক নারীকে চাপা দেওয়া গাড়ির চালক আজহার জাফর শাহ এখনো চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি বলে চিকিৎসকেরা পুলিশকে জানিয়েছেন। এ জন্য আজ সোমবারও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি পুলিশ।

চিকিৎসকের বরাতে পুলিশ বলছে, মারধরের শিকার আজহার জাফর শাহ মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। সুস্থ হতে কত দিন লাগবে—এ বিষয়ে চিকিৎসকেরা সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি।

আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, আজহার জাফর শাহ ঘুমাচ্ছেন। তাঁর পাহারায় আছেন পুলিশের দুই সদস্য এবং একজন আনসার সদস্য। গতকাল রোববার হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে গৃহকর্মী মাহমুদা আক্তার ছিলেন। তবে আজ ওই সময় তাঁর সঙ্গে কাউকে দেখা যায়নি।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, রুবিনা আক্তারকে চাপা দেওয়া গাড়ির চালক আজহার জাফর শাহ এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করার মতো অবস্থায় নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। চিকিৎসকের অনুমতি পাওয়া গেলেই তাঁকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আরও পড়ুন

গত শুক্রবার একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান রুবিনা আক্তার। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আজহার জাফর শাহ। রুবিনা গাড়ির নিচে চাপা পড়লেও সেই অবস্থায় এক কিলোমিটারের বেশি চালিয়ে নিয়ে যান তিনি। এতে রুবিনার মৃত্যু হয়। গাড়ি আটকানোর পর উত্তেজিত পথচারীরা আজহার জাফর শাহকে মারধর করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০১৮ সালে তাঁকে চাকরিচ্যুত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শুক্রবার রাতেই সড়ক পরিবহন আইনে শাহবাগ থানায় মামলা করেন রুবিনার ভাই জাকির হোসেন। মামলায় আজহার জাফর শাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, চিকিৎসকেরা ছাড়পত্র দিলে তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, গাড়িচাপা দেওয়ার পর রুবিনাকে এক কিলোমিটারের বেশি দূর পর্যন্ত কেন টেনে নিয়ে গেলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তা জানতে চাওয়া হবে। তিনি চাইলে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন। কিন্তু সেই চেষ্টা না করে তিনি পালানোর চেষ্টা করলেন কেন, সে ব্যাখ্যাও চাওয়া হবে।

আরও পড়ুন