মেট্রোরেলে দুর্ঘটনার কারণ মানহীন বিয়ারিং প্যাড ও নকশার ত্রুটি

ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড পড়ে একজন পথচারী নিহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও মানুষের ভিড়। ২৬ অক্টোবর ২০২৫ফাইল ছবি

মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালাম নিহতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। এতে বলা হয়েছে, বুয়েটের ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পড়ে যাওয়া দুটি বিয়ারিং প্যাডের মান যথাযথ ছিল না। একইভাবে যে স্থান থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে, সেখানকার ভায়াডাক্টের (উড়ালপথ) নকশাতেও ত্রুটি রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

আরও পড়ুন

তদন্তে মানহীন বিয়ারিং প্যাড ও নকশায় ত্রুটি পাওয়া গেলেও মেট্রোরেলের এ লাইনে ট্রেন চলাচল করতে পারবে বলে মনে করছেন কমিটির সদস্যরা। এ ক্ষেত্রে বিয়ারিং প্যাডগুলো নিয়মিত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

গত ২৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ফার্মগেট এলাকার মেট্রোরেলের ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড সরে গিয়ে নিচের রাস্তায় পড়ে। এ সময় মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান পথচারী আবুল কালাম আজাদ (৩৫)। সেদিনই ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একই এলাকার মেট্রোরেলের ৪৩০ নম্বর পিলার থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড সরে নিচে রাস্তায় পড়ে। তখন কোনো প্রাণহানি না হলেও মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল প্রায় ১১ ঘণ্টা।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে প্রতিবেদন তুলে দেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ
ছবি: আনোয়ার হোসেন

মেট্রোরেলের পিলার ও উড়ালসড়কের (ভায়াডাক্টের) সংযোগস্থলে বিয়ারিং প্যাড থাকে। এগুলো রাবার ও স্টিলের মিশ্রণে তৈরি। একেকটির ওজন ৫০ থেকে ৮০ কেজির মতো। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমন ২ হাজার ৪৮০টি বিয়ারিং প্যাড রয়েছে।

আরও পড়ুন