এ ঘটনায় পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা আজ শনিবার প্রথম আলোকে জানান, যে নৌকায় করে দুরন্ত নদী পার হচ্ছিলেন, সেখানে পাঁচজন যাত্রী ছিলেন। একটি লঞ্চ ওই নৌকাকে ধাক্কা দিলে সবাই পানিতে পড়ে যান। চার যাত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও পানিতে ডুবে মারা যান তিনি।

১২ নভেম্বর বিকেলে বুড়িগঙ্গা নদীর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেদিন রাত ১২টার দিকে লাশটি দুরন্ত বিপ্লবের বলে শনাক্ত করেন স্বজনেরা। ৭ নভেম্বর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দুরন্তের বোন শাশ্বতী বিপ্লব গত শুক্রবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের খামার থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটিতে মায়ের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বের হন তাঁর ভাই। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ।

মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র বলছে, শুরু থেকেই এই ঘটনার ছায়া তদন্ত করছিল তারা। দুরন্ত বিপ্লবের মৃত্যুর বিষয়ে চিকিৎসকের একটি বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে তারা তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেই নৌকাডুবির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

খামার থেকে ঘাট পর্যন্ত আসার সব তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছেন জানিয়ে পিবিআই ঢাকা জেলার এসআই সালেহ ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, দুরন্ত বিপ্লব খামার থেকে বেরিয়ে নূর পেট্রলপাম্পের এখানে রাস্তায় ওঠেন। সেখানে তাঁর অবস্থান শনাক্ত হয়েছে বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে। সেখান থেকে তিনি হেঁটে এসে খোলামোড়া সিএনজি স্টেশনে পৌঁছান ৪টা ৫৫ মিনিটে। পরে তিনি দেলোয়ার নামের একজনের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। সেই অটোরিকশায় করে জিনজিরা ফেরিঘাটে নামেন ৫টা ১২ মিনিটে।

সালেহ ইমরান আরও বলেন, এরপর দুরন্ত হেঁটে বটতলা ঘাটে আসেন। সেখানে গিয়ে তিনি শামসু নামের এক মাঝির নৌকায় ওঠেন। নৌকায় ৫ জন যাত্রী ছিলেন। সোয়ারীঘাটে যাওয়ার জন্য তিনি সেই নৌকায় উঠেছিলেন। যাওয়ার পথে ৫টা ২৮ মিনিটে মর্নিং সান–৫–এর সঙ্গে ওই নৌকার ধাক্কা লাগে। নৌকা উল্টে মাঝিসহ যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান। দূরন্ত বিপ্লব সাঁতার জানতেন না। তিনজন মাঝি অন্য যাত্রীদের উদ্ধার করেন।

এই কর্মকর্তার দাবি, বিপ্লবের জুতা উদ্ধার করা হয় নৌকা থেকে। তাঁর বোন ও খামারের ম্যানেজার জুতা শনাক্ত করেছেন।

১৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে দুরন্ত বিপ্লবের লাশের ময়নাতদন্ত হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মফিজুল উদ্দিন প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, দুরন্তের মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

অবশ্য দুরন্ত বিপ্লবের বোন শাশ্বতী বিল্পব আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের ফুটেজ দেখানো হয়েছে। তবে সেখানে আমার ভাইকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।’ তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘নৌকাডুবিতে মারা গেলে চিকিৎসক আমার ভাইয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পেলেন কীভাবে।’