গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় বাসের মধ্যে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাব্বি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বন্ধু, স্বজন, হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিহত রাব্বি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে কাজ করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি রাজধানীর লালবাগের শহীদ নগরে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে রাব্বি ছিলেন বড়। এ ঘটনায় আহত শাওন পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক।

রাব্বি ও শাওনের বন্ধু শাহরিয়ার বলেন, তাঁরা সবাই লালবাগের শহীদ নগর এলাকায় থাকেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে বন্ধুরা মিলে বাসে করে ধামরাইয়ের মোহাম্মদী গার্ডেন এলাকায় ঘুরতে যান। পরে তাঁরা বিকাশ পরিবহনের একটি বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। সন্ধ্যার দিকে গাবতলী এলাকায় এলে বাসের মধ্যে থাকা কয়েকজন যুবক ধূমপান করতে থাকেন। তাঁরা বাসে থাকা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। প্রতিবাদ করলে রাব্বির সঙ্গে ওই যুবকদের হাতাহাতি হয়।

শাহরিয়ারের ভাষ্য, বাসটি আসাদগেট এলাকায় এলে যানজটে পড়ে। এ সময় তিন থেকে চারজন যুবক বাসে উঠে রাব্বিকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা রাব্বির পেটে ও বাঁ পায়ে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় শাওন এগিয়ে যান। তাঁর পিঠেও ছুরিকাঘাত করেন যুবকেরা। পরে ওই যুবকেরা বাস থেকে নেমে যান।

শাহরিয়ার বলেন, রাব্বি ও শাওনকে আহত অবস্থায় রাত ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাব্বিকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

রাব্বির স্ত্রী রিয়া বেগম বলেন, সকালে লালবাগের বাসা থেকে বের হন রাব্বি। রাতে তিনি খবর পান, পিকনিকে গিয়ে যাত্রীবাহী বাসে ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন রাব্বি।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, রাব্বির লাশের ময়নাতদন্ত হবে। এ জন্য তাঁর লাশ কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত শাওন চিকিৎসাধীন।