হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ-উল-আহসান এক প্রতিবাদলিপিতে বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের শনাক্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে লাগাতার কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন তাঁরা৷ সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও পুলিশ কাউকে আইনের আওতায় আনতে না পারায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে হাসপাতালের ২০০ জন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক কর্মবিরতি শুরু করেন। কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের সেবা কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে৷

এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি করা হয়নি৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী পুলিশের সহযোগিতায় অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশা করছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘লিখিত অভিযোগ নয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওই শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের কাছ থেকে আমরা একটি প্রতিবাদলিপি পেয়েছি৷ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টির তদন্ত করছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে সহযোগিতা চাইছে, তা করা হচ্ছে৷’

এদিকে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ অপরাধীদের কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি৷ ঘটনাটির তদন্ত চলছে।

ইচিপের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন জিলানী আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত অপরাধীদের কেউ শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হয়নি৷ এ বিষয়ে আজ আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ টিটো মিঞা ও পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি৷ তাঁরা আশ্বস্ত করে বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে৷ যখনই অপরাধীদের কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে, তখনই আমরা কাজে ফিরে যাব৷'

মহিউদ্দিন জিলানী জানান, তাঁদের কর্মবিরতির কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না৷ কেউ চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন না৷ তবে ২০০ শিক্ষানবিশ চিকিৎসক কর্মবিরতিতে থাকায় অন্য চিকিৎসকদের ওপর চাপ বেশি পড়ছে৷

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক প্রথম আলোকে বলেছেন, শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে৷ তবে রোগীদের চিকিৎসায় যাতে কোনো ঘাটতি না হয়, সে জন্য চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে৷