শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার আদায় না করে ঘরে ফেরা নয়: ইনকিলাব মঞ্চ
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যায় জড়িত দেশীয় খুনিদের চিহ্নিত করা, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া খুনিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই হত্যার বিচার অবশ্যই করতে হবে। এই বিচার আদায় না করে তাঁরা ঘরে ফিরবেন না।
আজ শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে আজকের কর্মসূচি শেষ হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জি এ সাব্বির বলেন, গত সপ্তাহের বিক্ষোভ মিছিল শেষে তাঁরা এক সপ্তাহের সময় দিয়েছিলেন। তখন সরকারের উদ্দেশে বলেছিলেন, কোনো ছলচাতুরী নয়, কতদিনের মধ্যে খুনিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে সঠিক তদন্ত করে বিচার করবেন, সময় বলে দিন। রাষ্ট্রের উচিত ছিল, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট সময় বলে দেওয়া। এ কথা বলা যে এই সময়ের মধ্যে খুনিদের বিচার করা হবে।
জি এ সাব্বির বলেন, যেহেতু রাষ্ট্র এই ব্যাপারটাকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না, তাই তাঁরাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা জানতে চেয়েছেন, কত সময় লাগবে? ঠিক কত সময় হলে এই হত্যার বিচার তারা করতে পারবে? তারা কিছু সময় চেয়েছে। কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চ অল্প কিছুদিন সময় দেবে। এই সময়ের মধ্যে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তদন্ত সংস্থাসহ যত সংস্থা আছে, যেখানে যাবে। সবার কাছে জানতে চাইবে, ওসমান হাদি হত্যার বিচার কবে করবে? তারা যদি নির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে না পারে, তাহলে তারা এই হত্যাসংশ্লিষ্ট নথিসহ সবকিছু নিয়ে শাহবাগে বসে যাবে। এই হত্যার বিচার আদায় না করে তাঁরা ঘরে ফিরবেন না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, অন্তর্বর্তী থেকে শুরু করে বর্তমান সরকার ওসমান হাদি হত্যার রহস্যকে একটা ‘পলিটিক্যাল টুল’ হিসেবে ব্যবহার করছে। যখন তেলের দাম বাড়ে, হামে শিশু মরে, ফেরিঘাটে বাস ডুবে যায়, দেশে একটা সংকট তৈরি হয়, তখনই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা হাদির খুনিকে দেশে ফেরত আনছে। অবশ্যই এই হত্যার বিচার সরকারকে করতে হবে।
ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। এরপর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
গত ৬ জানুয়ারি এই হত্যা মামলার তৎকালীন তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই অভিযোগপত্রে নারাজি দেন। সেদিন আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন। সিআইডি এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি।