তিন সন্তান নিয়ে নতুন আশ্রয় পেলেন সেই মা

রাজধানীর পল্লবীর কালশী বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গৃহহীন হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। অনেকেই মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে কালশী উড়ালসড়কের র‍্যাম্পের নিচে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদেরই একজন রাজিয়া বেগম। স্বামী এক সপ্তাহ আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথাও চলে গেছেন। আর ফেরেননি।

এর মধ্যে আগুনে তাঁর ভাড়া বাসা, আসবাবসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এরপর ছোট তিনটি সন্তান নিয়ে উড়ালসড়কের র‍্যাম্পের নিচে আশ্রয় নেন এই মা।

গতকাল মঙ্গলবার ‘আগুনে পুড়েছে সব, ফেরেননি স্বামী, তিন সন্তানকে আঁকড়ে অপেক্ষায় এক মা’ শিরোনামে প্রথম আলোর অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই সূত্র ধরে গতকাল সন্ধ্যায় নারীটির খোঁজে যান প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সদস্যরা। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজিয়ার পরিবারসহ মোট তিনটি পরিবারের জন্য ঘর ভাড়া করে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেড় শ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক রাতের খাবারের ব্যবস্থা করে ব্র্যাক। তার আগে বন্ধুসভার সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করেন।

নতুন ঘরে রাজিয়া বেগম ও তাঁর সন্তানেরা
ছবি: ব্র্যাকের সৌজন্যে

পরিবার তিনটিতে অন্তত ১০টি শিশুসহ ১৬ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের জন্য বাসা খুঁজে এক মাসের ভাড়া অগ্রিম নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মশারি, বিছানাসহ বসবাসের জন্য প্রাথমিক উপকরণ কিনে দেওয়া হয়।

রাজিয়া বেগম বলেন, ‘ছোট বাচ্চাটা ঘরে ঢুইকা মুখে হাসি আনছে। খেলতাছে। দেইখাই ভাল্লাগতাছে। সারাদিন গোসল করছি না। এহন বাচ্চাগুলা নিয়া একটু শান্তিতে ঘুমামু। সামনে কাজকামের চেষ্টা করতারমু।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক ও সহসভাপতি নূর ই আলম। সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘গত রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই ভাবছিলাম এই মানুষগুলোর জন্য কী করা যায়। আজ প্রথম আলোতে রাজিয়া বেগমের সংবাদটি দেখলাম। তারপর আমরা ঘটনাস্থলে যাই, খোঁজখবর নিই। এর মধ্যে ব্র্যাকও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই মানবিক উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য উপকরণ নিয়ে এগিয়ে আসে।’

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে সহসভাপতি নূর ই আলম বলেন,‘আপনারা কোনো অবস্থাতেই মনোবল হারাবেন না। যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্র্যাক ও বন্ধুসভাকে আপনারা বরাবরের মতো পাশে পাবেন। আমরা সবাই মিলে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করার সামর্থ্য রাখি।’

ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের ডেপুটি প্রোগ্রাম হেড এহসানুল ইসলাম বলেন, ‘ব্র্যাক বরাবরই যেকোনো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এরই অংশ হিসেবে আমরা কালশীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ব্র্যাক সব সময় চায় যেকোনো পরিস্থিতিতে মানুষ মানবিক মর্যাদা নিয়ে বসবাস করুক।’

মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় কর্মকর্তারা এবং বন্ধুসভার সদস্যরা।

ব্র্যাকের সহযোগিতায় আজ বুধবার দেড় শ পরিবারের জন্য দুপুরের খাবার এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রাথমিক সামগ্রীর একটি প্যাকেজ দেওয়া হবে। প্রতিটির মূল্য তিন হাজার টাকা। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সহযোগিতা চলমান থাকবে। যত দিন প্রয়োজন হয় বন্ধুসভার সহযোগিতায় এই মানুষগুলোর পাশে থাকবে তারা।

আরও পড়ুন