মুহূর্তের মধ্যে বাস থেকে নেমে ওই ছাত্রী ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করেন। কিন্তু ধরতে পারেননি। মুঠোফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হারিয়ে কারওয়ান বাজারের মূল সড়কের পাশে ইত্তেফাক-এর গলিতে এসে কাঁদছিলেন। ঠিক তখনই পাশ দিয়ে আরেকজনের মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালাচ্ছিলেন আরেক ছিনতাইকারী।

ছিনতাইকারীর পেছনে ছুটছিলেন মুঠোফোনের মালিক। ওই ছাত্রী দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকারী এই ছিনতাইকারীকে ধরতে সক্ষম হন। এরপর বেধড়ক মারধরও দেন। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে জড়ো হন অনেক মানুষ। অনেকে ছিনতাইকারীকে মারধরের ঘটনা ভিডিও করেন। পরে পুলিশ ডেকে এই ছিনতাকারী ও তার এক সহযোগীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ওই ছাত্রী ও তাঁর সহপাঠী।

কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই ছাত্রী আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথম আলোকে সেদিনের ঘটনার বিবরণ শোনান তিনি ও তাঁর সহপাঠী।

ছাত্রী বলেন, ‘প্রথমে আমি ভয় পেয়েছিলাম। তাই মামলা করিনি। ভেবেছিলাম পরিবার কী ভাববে। তবে পরিবার আমার সঙ্গে আছে। তারা আমাকে সাহস জুগিয়েছে। আমি একজন সাধারণ মানুষ হয়ে যদি দুজন ছিনতাইকারীকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারি, তবে নিশ্চয়ই পুলিশের সক্ষমতা রয়েছে ৪৮ ঘণ্টার আগেই সেই ছিনতাইকারীকে আটক করে আমার ফোন উদ্ধার করে দেওয়ার। তাদের পুরো সিন্ডিকেট নির্মূল করার, এটা তাদের দায়িত্ব। পথে পথে এভাবে সাধারণ মানুষদের হয়রানি করার কোনো অধিকার তাদের নেই। তাদের কঠোর শাস্তির জন্য পৃথক আইন করাও প্রয়োজন।’
কেউ সহযোগিতায় এগিয়ে না আসার প্রসঙ্গ টেনে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এমন ঘটনায় নারী কিংবা পুরুষ নয়। আমাদের পছন্দের জিনিস কেউ ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে, এমন হতে পারে না। আমাদের সাহসিকতা দেখাতে হবে। আমার ফোনটি যখন নিয়ে যায়, তখন রাস্তায় থাকা অন্য যাত্রী, বিশেষ করে মোটরসাইকেলে থাকা যে কেউ ছিনতাইকারীকে আটক করতে পারত। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। সবাই যদি হাত গুটিয়ে বসে থাকে, তবে তাদের সাহস বাড়বে। আর যদি আমরা সহযোগিতা করি, তবে তারা ভয়ে এই কাছ থেকে সরে যাবে।’

ছাত্রী আরও বলেন, মুঠোফোনটি হারিয়ে যাওয়ায় গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কোর্স সভাপতির সঙ্গেও কথা বলে ভালো সমাধান মেলেনি।

নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারলে হয়তো ইয়ার ড্রপও নিতে হতে পারে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। সে (ছাত্রী)চেয়ারম্যান দপ্তরে যোগাযোগ করলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

ছাত্রীর সঙ্গে থাকা সহপাঠী বলেন, ‘অনেক মানুষ এই ভিডিও করছিল। কিন্তু কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসছিল না। ভিডিও করা শেষে সবাই যে যার মতো চলেও যেতে শুরু করেছিল। তখন আমাদের ভয় লাগতে শুরু করে। আমরা পুলিশে ফোন দিই। এক গণমাধ্যমকর্মী আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে।’

এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাজধানীতে প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এগুলো রুখতে আমাদের সচেতনতা, মানুষের এগিয়ে আসা এবং আইনশৃঙ্খলার কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

সাহায্য করা সেই গণমাধ্যমকর্মী দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ এসেছিলেন ক্যাম্পাসে। তিনি বললেন, ‘যখন শিক্ষার্থীকে সড়কে এক ছিনতাইকারী আটক করতে দেখলাম, আর কেউ এগিয়ে না এসে শুধু ভিডিও করছিল, তখন নিজের পেশাদারত্বের পাশে তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে গেলাম। তবে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়াই জরুরি।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন