রাসেল মাহমুদ বলেছেন, তিনি মোনাফের বিরুদ্ধে হলের প্রাধ্যক্ষ বরাবর শিগগির লিখিত অভিযোগ দেবেন। রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, হলের বড় ভাইদের (ছাত্রলীগ নেতা) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে এক ব্লকের শিক্ষার্থীদের অন্য ব্লকে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। বিষয়টি তাঁর কক্ষের কেউ আগে থেকে জানতেন না। খবর পেয়ে তিনি তাঁর কক্ষে যান। কক্ষে যেতে তাঁর ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরি হয়। গিয়ে দেখেন, সহপাঠী মোনাফসহ কয়েকজন তাঁদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র কক্ষের বাইরে ফেলে রেখেছে। কারণ জানতে চাইলে মোনাফ তাঁকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে মোনাফ থামেন। এরপর তিনি নিজের জিনিসপত্র গোছাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর কক্ষের আরেকজন আসেন। তিনিও এসে দেখেন, তাঁর জিনিসপত্র কক্ষের বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে রুমমেটের সঙ্গে মোনাফের কথা-কাটাকাটি হয়।

রাসেলের ভাষ্য, ‘হঠাৎ মোনাফ গালিগালাজ করে বলে ওঠেন, “সবগুলো একসঙ্গে বের হবি, নইলে খবর আছে, তাড়াতাড়ি রুম থেকে বের হ।” জবাবে আমি বলি, “খবর আছে মানে কী, তুই কী করবি?”’ এ কথা বলার পর মোনাফ হাতে থাকা রড দিয়ে তাঁর ওপর হামলা করে। তিনি মেঝেতে পড়ে যান। তাঁর শরীরে মারাত্মক আঘাত লাগে। পরে মোনাফ চলে গেলে রুমমেটরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা মোনাফ গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাসেল আমার খুব ভালো বন্ধু। সে রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছে। সে চাপে পড়ে এসব বলছে। আমি এগুলো নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না।’

মোনাফ বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু ইউনুসের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁদের দুজনেরই গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়।

গতকালের ঘটনা সম্পর্কে আবু ইউনুস প্রথম আলোকে বলেন, ‘হলের আসন এক্সচেঞ্জ (বিনিময়) হওয়ার কথা ছিল। একজন দেরি করছিল। এ নিয়ে একজনের সঙ্গে আরেকজনের বিবাদ হয়। মারধরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মোনাফের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ আবদুল বাছির বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।