মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, বিকল্প পরিবহন উপেক্ষিত: আইপিডি
মেট্রোরেল প্রকল্পে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার অভাবে ব্যয় বেড়েছে বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলেছে, মেট্রোরেলের পাশাপাশি বাস, বিআরটি, কমিউটার রেল, পথচারীবান্ধব ব্যবস্থা ও অন্যান্য গণপরিবহনে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। প্রকল্প অনুমোদনের আগে উপযোগিতা, লাভ-ক্ষতি ও বিকল্প পরিবহনব্যবস্থার সম্ভাবনা যথাযথভাবে বিশ্লেষণেরও দাবি জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার ‘মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনায় ন্যায্যতা’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় এ কথা বলা হয়। আইপিডির আয়োজনে অনুষ্ঠানে পরিবহন পরিকল্পনাবিদ, নগর–পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, মেট্রোরেলের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে যোগাযোগব্যবস্থার অন্যান্য সম্ভাবনা পিছিয়ে পড়েছে। ২০০৫ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) বাস, বিআরটি ও পথচারীবান্ধব ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। বরং প্রাথমিক পরিকল্পনায় তিনটি মেট্রোরেলের প্রায় ৬০ কিলোমিটার নেটওয়ার্কের কথা থাকলেও সংশোধিত পরিকল্পনায় ছয়টি মেট্রোরেলের ১৪০ কিলোমিটারের বেশি নেটওয়ার্কের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইপিডির তথ্য অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। বিপরীতে এমআরটি লাইন-১-এ ৩ হাজার ৬৬১ কোটি এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)-এ ৪ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, প্রকল্পগুলোর ব্যয়ের এই পার্থক্য প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
পরিবহন পরিকল্পনাবিশেষজ্ঞ মুনতাসীর মামুন বলেন, মেট্রোর পাশাপাশি কার্যকর বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি। বর্তমানে প্রায় ১ শতাংশ ট্রিপ মেট্রোর মাধ্যমে হচ্ছে। ভবিষ্যতে সব পরিকল্পিত মেট্রোরেল বাস্তবায়িত হলেও সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ট্রিপ বহন করা সম্ভব হতে পারে। ফলে বাকি যাত্রীদের জন্য কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বড় প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় যৌক্তিক ও ন্যায্য কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের কথাও বলেন তিনি।
এ ছাড়া আলোচকেরা কমলাপুর-এয়ারপোর্ট-জয়দেবপুর রেলপথকে কমিউটার ট্রেনের জন্য ব্যবহার, বিআরটি ও বাস রুট রেশনালাইজেশন, মেট্রোর সঙ্গে পথচারী ও অন্যান্য গণপরিবহনের সমন্বয় এবং প্রকল্পের জীবনচক্র ব্যয় প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।
আইপিডি মেট্রোরেল প্রকল্পে উন্মুক্ত দরপত্র, স্বাধীনভাবে ব্যয় যাচাই, ২০-৩০ বছরের পরিচালন ব্যয় ও ঋণের কিস্তির হিসাব প্রকাশ এবং প্রকল্পের প্রতিটি প্যাকেজের দরপত্র ও ব্যয়ের তথ্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে।