সহপাঠীর মৃত্যুর পর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমেছিল। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় থেকে বড়দের ভুল-বিশৃঙ্খলা ধরিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বক্তব্য ছিল, ‘শিশুরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে, বিবেককে জাগ্রত করেছে।’ তখন দায়িত্বশীল সবাই সড়ক নিরাপদ ও বিশৃঙ্খলমুক্ত করতে নানা আশ্বাস দেন। এই আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যায়। তবে সড়কে আগের মতোই দুর্ঘটনা ঘটছে। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। কিছু শিক্ষার্থী সাদা কাপড় পরে ‘সড়কে লাশের মিছিল’ লেখা ব্যানার নিয়ে পদযাত্রার সামনে অংশ নেন। পদযাত্রায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে ‘বি অ্যালার্ট, রোড ইন বিডি ইজ নট সেফ’, ‘গণপরিবহন বৃদ্ধি কর’, ‘জেব্রা ক্রসিংয়ের সংখ্যা বাড়াও’, ‘যানজট মুক্ত সড়ক চাই’, ‘আইন প্রয়োগে সরকার ব্যর্থ কেন?’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।

শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি-দাওয়ার কথা জানিয়ে স্লোগানও দেয়। তাদের স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল—‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘সড়কে ছাত্র মরে—প্রশাসন কী করে?’, ‘পুলিশের গাড়িতে ছাত্র মরে—প্রশাসন কী করে?’, ‘প্রশাসন করে কি খায়-দায়-ঘুমায় না কি?’, ‘যে হাত ছাত্র মারে, সে হাত ভেঙে দাও’।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের (নিসআ) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সালে আমরা ৯ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলাম। সেই আন্দোলনের চার বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। কোনো দফা এখনো পূরণ হয়নি। তাই বারবার আমাদের রাস্তায় নেমে আসতে হচ্ছে।’

শাহীদুল ইসলাম বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলিস্তানে পুলিশের রেকার গাড়ির চাপায় এক শিক্ষার্থী নিহত হয়। যে পুলিশের দায়িত্ব নাগরিকদের রক্ষা করা, সেই পুলিশের গাড়ির চাপায় যদি শিক্ষার্থী নিহত হয়, তাহলে তারা কার কাছে বিচার চাইবে? এই দায় সরকারের, প্রশাসনের। সরকার–প্রশাসন পদক্ষেপ নিলে আর কোনো শিক্ষার্থী সড়কে নিহত হতো না।

পদযাত্রায় অংশ নেওয়া রাজধানীর তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পদযাত্রায় অংশ নেন নীপা ওয়াহিদ নামের এক অভিভাবক। তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা।

নীপা প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন অভিভাবক হিসেবে আমি যদি আমার সন্তানের ন্যায্য দাবির এই আন্দোলনে শামিল না হই, তাহলে সাধারণ মানুষ সচেতন হবে না, সড়কে মৃত্যুও বন্ধ হবে না। পাশাপাশি আমাদের সন্তানদের সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।’

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন