রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় একজনসহ নিহত ৩

সড়ক দুর্ঘটনাপ্রতীকী ছবি

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ডেমরার এক্সপ্রেসওয়ে সেতুর ওপর গাড়ির ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ছাড়া গতকাল বুধবার রাতে বাসের ধাক্কায় মো. নজরুল ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তি আর মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ইয়াকুব আলী (৫০) নিহত হন।

ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শীতল কুমার প্রথম আলোকে বলেন, আজ ভোর সাড়ে চারটার দিকে ডেমরা থানার স্টাফ কোয়ার্টার পুলিশ বক্সের বিপরীত পাশে এক্সপ্রেসওয়ের সেতুর ওপর দ্রুতগতির একটি গাড়ির চাপায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিহত হন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। পরনে ছিল কালো রঙের শার্ট ও প্যান্ট।

শীতল কুমার আরও বলেন, দুর্ঘটনায় মরদেহের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বেলা একটার দিকে মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

গতকাল রাত ১১টার দিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের উত্তর পাশে ওয়ান–স্টপ সিএনজি পাম্পের সামনে প্রধান সড়কে গাড়ির ধাক্কায় আহত হন মো. নজরুল ইসলাম (৫০)। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আজ ভোর সোয়া চারটার দিকে মারা যান তিনি।

নজরুল ইসলামের বাড়ি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার পশ্চিম আলীপুর গ্রামে। তাঁর ছোট ভাই হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মামলা-সংক্রান্ত কাজে দুই–তিন দিন আগে নজরুল ইসলাম ঢাকায় এসে লালবাগে তাঁর ভাগনির বাসায় উঠেছিলেন। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। প্রায় ২০ বছর সৌদি আরবে থেকে দেড় বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন।

এদিকে গতকাল মধ্যরাতে রাজধানীর বিজয় সরণিতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ইয়াকুব আলী (৫০) নামের এক বিদ্যুৎমিস্ত্রি নিহত হন।

আজ সকালে ঢামেক মর্গে ইয়াকুবের ছেলে মানিক ইয়াসিন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে তাঁর বাবা পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় কাজ শেষ করে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলের পেছনে বসে বাসায় ফিরছিলেন। রাত ১২টার দিকে একটি মাইক্রোবাস পেছন থেকে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটির চালক তাঁর বাবাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া দুইটার দিকে চিকিৎসক ইয়াকুবকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক।

ইয়াকুবের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ওলানিয়া গ্রামে। তিনি রাজধানীর পল্লবীতে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।