জেলা প্রশাসক জেনেবুঝে জায়গাটি পুলিশকে দিয়েছেন

রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা নির্মাণ করছে পুলিশ, এভাবে শিশুদের খেলার মাঠ কেড়ে না নেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন পরিবেশবিদ ও অধিকারকর্মীরা
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠকে ‘পুলিশের সম্পদ’ বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেছেন, ঢাকার জেলা প্রশাসক জেনেবুঝে এ জায়গাটি পুলিশকে দিয়েছেন। এর মূল্য হিসেবে অর্থও দিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

এই মাঠ রক্ষার দাবি নিয়ে আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ‘নিজেরা করি’র প্রধান নির্বাহী খুশী কবির, স্থপতি ইকবাল হাবীব এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গীতা ইমাম। বৈঠক শেষে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা কিছুটা আশা নিয়ে ফিরছি। উনার কথা শুনে বুঝেছি, উনি এটা সক্রিয় বিবেচনায় রাখবেন।’

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকার থানাগুলোর বেশির ভাগ ভাড়া বাড়িতে। ভাড়া বাড়িতে থাকার জন্য পুলিশকে বেশ অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। সে জন্য স্থায়ী অবস্থায় নিতে ডিসির কাছে নিয়ম অনুযায়ী বলেছিলাম, জমি অধিগ্রহণ করে কলাবাগানের কোনো জায়গায় দেওয়া যায় কি না। ডিসি জেনে বুঝে, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে, এই জায়গাটিকে আমাদের বরাদ্দ দেন। এর মূল্য হিসেবে পুলিশ টাকা জমা দেয়। পরে ডিসি জায়গা হস্তান্তর করে।’

আরও পড়ুন

তেঁতুলতলা মাঠটি নিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ফাঁকা জায়গা থাকায় বাচ্চারা খেলাধুলা করত। এখন সবাই এই জায়গাটি নিয়ে নানা কথাবার্তা বলছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা স্পষ্ট, আমাদের জায়গার প্রয়োজন। কলাবাগানের একটা থানা ভবনেরও প্রয়োজন। সেটার দিকে লক্ষ রেখে আমরা বলছি, যদি ভালো কোনো জায়গা আমাদের ওখানে মেয়র বা অন্য কেউ ব্যবস্থা করেন, তখন আমরা সেটা কনসিডার করব। আমরা আমাদের থানার জন্য এটি নির্দিষ্ট জায়গা, সরকারিভাবে এটা ব্যবস্থা হয়েছে।’

নির্মাণকাজ হবে কি না—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্মাণকাজ হবে কি হবে না সেটা পরের কথা। সেটা পরে সিদ্ধান্ত হবে। আমরা বলছি, আমরা তো এখনি এর কন্সট্রাকশনে যাচ্ছি না। আপনারা খুঁজুন আমরা দেখব। আপনারা যদি এর চেয়ে ভালো অফার দিতে পারেন, আমরা অবশ্যই দেখব।’

কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষার দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে মন্ত্রী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার খাল–নালা–মাঠের সুরক্ষা দিয়ে উন্নয়নকাজ করার নির্দেশনা দিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা মাঠের জন্য যে বলেন, এটা ২০ শতাংশ জমি। খুব বড় জমি এটা নয়। ফুটবল খেলার, টেনিস খেলার মাঠ হবে দুইটা, এ রকম কিছুও নয়। খুবই ছোট জায়গা। চিকন ও লম্বালম্বি। খুব ভালো জায়গাও কিন্তু নয়। তারা একটা আবেদন করেছে, আমরা দেখব। যেহেতু টাকা দিয়েছি, সেটার কী হবে সেটাও দেখব।’

মাঠের বিষয়টি ‘পাবলিক সেন্টিমেন্ট’—সাংবাদিকদের এমন কথার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাবলিক সেন্টিমেন্ট তো বুঝছি। আমি বলছি, থানা দরকার। পাবলিককে নিরাপত্তা দিতে হবে। সেটা তো পাবলিকের বুঝতে হবে। তাদের নিরাপত্তা না দিতে পারলে পাবলিক সেন্টিমেন্ট আমাদের বিরুদ্ধে যাবে।’

আন্দোলনকারীদের দাবি যৌক্তিক কি না—সে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা পুলিশের সম্পদ। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করব।’

আরও পড়ুন

রাজধানীর পান্থপথের উল্টো দিকের গলির পাশে খোলা জায়গাটিই তেঁতুলতলা মাঠ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় শিশুরা সেখানে খেলাধুলা করে। পাশাপাশি মাঠটিতে ঈদের নামাজ, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। এই মাঠে কলাবাগান থানার স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় গত রোববার ওই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দা রত্না ও তাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলেকে ধরে নিয়ে প্রায় ১৩ ঘণ্টা থানায় আটকে রেখে মধ্যরাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি শিশুদের খেলার মাঠে থানা ভবন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন মানবাধিকারকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আরও পড়ুন