রিমান্ডে নেওয়া ১০ আসামি হলেন শাহীন আলম ওরফে কামাল, শাহ আলম ওরফে সালাউদ্দিন, বি এম মজিবুর রহমান, সুমন হোসেন পাটোয়ারী, আরাফাত রহমান, খাইরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হোসেন, শেখ আবদুল্লাহ, আবদুর সবুর ও রশিদ উন্নবী ভূঁইয়া।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করে পুলিশ। তাতে পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গি মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির, মো. আবু ছিদ্দিক সোহেলসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে আরাফাত রহমান ও আবদুর সবুরও দুপুরে ওই দুজনের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁরা সফল হননি। তাঁরাসহ গ্রেপ্তার ১০ জনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।

দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, দুই জঙ্গিকে তাঁদের সহযোগীরা ছিনিয়ে নিয়েছেন।

একটি মামলায় শুনানি শেষে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে দুই জঙ্গির সহযোগীরা হাজতখানা পুলিশের চোখে স্প্রে ছিটিয়ে, কিলঘুষি মেরে মইনুল হাসান শামীম ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেলকে ছিনিয়ে নেন। এরপর তাঁরা দুটি মোটরসাইকেলে রায়সাহেব বাজার মোড়ের দিকে পালিয়ে যান।

এ ঘটনার পর দেশজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন। এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।