বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফরিদা প্রথম আলোকে বলেন, শেওড়াপাড়ায় মাদবরের পুকুরপাড়ের একটি বাসায় তাঁরা থাকেন। ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৭–৮ জন তাঁদের বাসায় আসেন। এ সময় বাসার বাইরে কয়েকটি হায়েস গাড়ি দাঁড়ানো ছিল। বাহিনীর সদস্যরা জানান, তাঁর স্বামীর নামে ভোলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। তবে তাঁরা পরোয়ানা দেখাননি। তাঁদের একজনের একটি পরিচয়পত্রের ছবি তোলেন বাসার এক সদস্য। তাঁরা তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ওই ছবিও মুছে ফেলেন।

পাঁচ দিন পর অভিযোগ করার কারণ জানতে চাইলে ফরিদা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে তিন দিন চুপ করে থাকতে বলেছিলেন।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জিডির পর জিজ্ঞাসাবাদে পরিবার আসলে বেশ কিছু জিনিস ‘হাইড’ করেছে। তাঁকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ চাওয়ার মতো কিছু নেই। তাঁর নামে চুরি ও মাদক মামলা আছে। তাঁর সহযোগীরাও তাঁকে তুলে নিয়ে যেতে পারে।’

ফরিদা ইয়াসমিনের প্রশ্ন, আমার স্বামী অপরাধী হলে তাঁকে গুম করে দেওয়া হবে কেন? তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে না কেন? তিনি বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন, আমরা সে খবরটুকুও পাব না?’

এর আগে ২৫ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের (ঢাকা মহানগর উত্তর) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানকে (মুসাব্বির) তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে তাঁর পরিবার।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি আজিজুরকে গ্রেপ্তার বা আটকের কোনো খবর জানেন না বলে জানিয়েছিলেন প্রথম আলোকে।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ পুরোনো। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ গত ডিসেম্বরে এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিশানা করে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এমন অভিযোগ রয়েছে। গুমের এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য থাকার দাবিও করে। তারা বাংলাদেশকে ৭৬টি গুমের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন