default-image

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল আজ। তবে রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রায় ঘোষণা স্থগিত করেছেন আদালত।

আগামী ৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন ঢাকার ৩ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল ইসলাম।

রাজধানীর বেগুনবাড়ী এলাকায় ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ খুন হন ব্লগার ওয়াশিকুর। তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি সালাউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন ছিল আজ। তবে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই মামলার অভিযোগ গঠনের সংশোধনীসহ নতুন করে অভিযোগ গঠনের আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেছি। আদালত সেই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ৪ নভেম্বর নতুন দিন ঠিক করেছেন।

পিপি সালাউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এই মামলার অভিযোগ গঠন করা হয় দণ্ডবিধির ৩০২ এবং ৩৪ ধারায়। কিন্তু অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল দণ্ডবিধির ৩০২ ও দণ্ডবিধির ১২০-বি ধারায়। রাষ্ট্রপক্ষের করণিক ভুলে এই ঘটনা ঘটে। এই মামলার যুক্তিতর্কের শুনানির সময় বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে।

অভিযোগ গঠনের সংশোধনী চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে বলা হয়, এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনজন আসামি জেলহাজতে আছেন। তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। তিন আসামি হলেন জিকরুল্লাহ ওরফে হাসান, আরিফুল ইসলাম ওরফে মুশফিক ওরফে এরফান, সাইফুল ইসলাম ওরফে মানসুর। আর দুজন পলাতক রয়েছেন। তাঁরা হলেন জুনেদ ওরফে জুনায়েদ আহমেদ ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবদুল্লাহ।

ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যায় ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হন দুই আসামি জিকরুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে এই মামলায় গ্রেপ্তার হন সাইফুল ইসলাম নামের আরেক আসামি। এই খুনের ঘটনার সময় জেলখানায় ছিলেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় সব আসামির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

এই হত্যা মামলায় ২০১৬ সালের ২০ জুলাই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পাঁচ সদস্যের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

২০১৫ সালের ৩০ মার্চ রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বেগুনবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে খুন হন ব্লগার ওয়াশিকুর। এ ঘটনার পরপরই জনতা ধাওয়া করে মাদ্রাসাছাত্র জিকরুল্লাহ ও আরিফুলকে ধরে ফেলেন। আর সাইফুলকে হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে অস্ত্রসহ যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এই হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন চারজনকে আসামি করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় এই মামলা করেন ওয়াশিকুরের ভগ্নিপতি মনির হোসেন।

ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করে ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর আনসারুল্লাহর পাঁচ সদস্যকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পলাতক আসামি আবদুল্লাহ হত্যার পুরো বিষয়টি পরিকল্পনা করেছিলেন এবং বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0