স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ: বিমানবন্দর থানা ছাত্রদল সভাপতি-সম্পাদক বহিষ্কার
স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠার পর বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিপন হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের এ দুই ছাত্রনেতার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক শিবলু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশের এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিপন হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্তকে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।’
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ–উর–রহমান লিপকন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের তাঁদের সঙ্গে কোনোরূপ সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
২৮ আগস্ট কাউসার হোসেন নামের এক মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে বোনের বিয়ের জন্য ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার দেশে পাঠান। বিমানবন্দর থেকে তাঁর ছোট ভাই মো. সুমন ও তাঁর বন্ধু রোহান ওই ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণালংকার গ্রহণ করেন। এরপর বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে আসতেই বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন, বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ ও সাধারণ সম্পাদক রুবেল তাঁদের ঘিরে ধরেন।
এ সময় তাঁরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোক পরিচয় দিয়ে এবং তাঁদের কাছে বোমা রয়েছে বলে ভয় দেখান। পরে তাঁরা এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদের কাছে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ২৯ আগস্ট বিমানবন্দর থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেন মো. সুমন। এ ঘটনায় ১০ আগস্ট আল আমিন ও আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই নেতা কারাগারে
গত শনিবার রাত ১০টার দিকে বিমানবন্দরের ১ নম্বর সেক্টর থেকে আল আমিন হোসেন শান্ত ও আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন গতকাল রোববার তাঁদের আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আজ রিমান্ড শেষে আল আমিন হোসেন শান্ত ও আব্দুর রউফকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক সাব্বির হোসেন তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রহমান তাঁদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আদালতের বাইরে আসামি ও বাদীর মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে। তাঁরা জামিন পেলে পলাতক হবেন না। তবে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।