নয়াপল্টনে স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার পবিত্র কুমার বড়ুয়াছবি: পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া

রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার ভোরে মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে পল্টন থানার পুলিশ পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে। তিনি শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের স্বামী।

সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মতিঝিল জোন) হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী প্রথম আলোকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়েছেন।

শিশুটিকে ধরে রেখেছেন প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান। আর মারধর করছেন স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার
ছবি: সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেওয়া

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, পল্টন থানার পুলিশের আরেকটি দল আরেক আসামি শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

১৮ জানুয়ারি নয়াপল্টন এলাকার মসজিদ রোডে শারমিন একাডেমি নামের একটি স্কুলে একটি শিশুকে নির্যাতন করা হয়। শিশুটি স্কুলে প্রি–প্লে শ্রেণিতে পড়ত। তার বয়স চার বছরের কম।

স্কুলের অফিসকক্ষে শিশু নির্যাতনের ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি অফিসকক্ষে স্কুলের পোশাক পরা একটি শিশুকে নিয়ে ঢুকলেন এক নারী। শিশুটিকে প্রথমে ওই নারী চড় দিলেন। এরপর শিশুটির ওপর চড়াও হলেন আগে থেকেই অফিস কক্ষে থাকা এক পুরুষ। ওই পুরুষ কখনো শিশুটির গলা চেপে ধরছিলেন, কখনো মুখ চেপে ধরছিলেন। হাতে স্ট্যাপলার ছিল। শিশুটি কখনো কাঁদছিল, কখনো অস্থির হচ্ছিল। ওই নারী হাত ধরে তাকে আটকে রাখছিল। একপর্যায়ে শিশুটি ওই নারীর শাড়িতে থুতু ফেললে পুরুষটি শিশুটির মাথা শাড়িতে থুতু ফেলার জায়গায় চেপে ধরেন এবং সেই অবস্থায় কয়েকবার শিশুর মাথায় ঝাঁকি দেন।

ভিডিও ফুটেজে থাকা নারীটি শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং পুরুষটি হলেন স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার।

এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন শিশুটির মা। দুজনকে আসামি করে শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।  

আরও পড়ুন
নয়াপল্টন এলাকার মসজিদ রোডে শারমিন একাডেমি
ছবি: প্রথম আলো