default-image

তাঁরা মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে কিডনি কেনাবেচা করে থাকেন। এই চক্রের সদস্যরা পাশের দেশে অবস্থানরত কিডনি কেনাবেচা চক্রের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শতাধিক মানুষকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠিয়েছেন বলে জানা যায়।

আবদুল্লাহ আল মোমেন বলেন, চক্রের প্রথম দল ঢাকায় অবস্থান করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন প্রয়োজন, এমন বিত্তশালী রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। চক্রের দ্বিতীয় দলটি প্রথম দলের চাহিদা মোতাবেক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে এবং তাঁদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের জন্য ডোনার হতে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় নিয়ে আসে।

পরবর্তীকালে অন্য একটি দল প্রলোভনের শিকার ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারদের ঢাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন-প্রত্যাশী রোগীর সঙ্গে ব্লাড ম্যাচিং ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে। ব্লাড ম্যাচিং ও অন্যান্য ডায়াগনস্টিক টেস্টে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের উপযুক্ততা নিশ্চিত হলে তাঁর পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ভুক্তভোগী ডোনারকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করে।

এই চক্রের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানকারী আরেকটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারকে বিদেশের এয়ারপোর্ট অথবা স্থলবন্দরে রিসিভ করা থেকে শুরু করে হাসপাতালের ডকুমেন্টেশন, অস্ত্রোপচারসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ভিকটিমদের বৈধ/অবৈধ উপায়ে বিমান বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকার মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠায়।

আবদুল্লাহ আল মোমেন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। প্রতিটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তাঁরা রোগীপ্রতি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা নিতেন। বিপরীতে তাঁরা কিডনি ডোনারকে মাত্র চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করে অগ্রিম দুই লাখ টাকা দিতেন।

কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের পর প্রলোভনের শিকার কিডনি দাতাদের প্রতিশ্রুত অর্থ না দিয়ে নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রের মূল হোতা ও অন্যতম অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম ২০১৬ সালে নিজের চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশে যান।

সেখানে তিনি কিডনি প্রতিস্থাপনের রোগীদের ব্যাপক চাহিদা দেখতে পান এবং নিজেই কিডনি প্রতিস্থাপনের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন। পাশের দেশের কিডনি কেনাবেচার চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি এখানে কিডনি কেনাবেচা চক্রের সঙ্গে সহযোগিতায় একটি দালাল চক্র প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি অনলাইনের মাধ্যমে আগ্রহী বিত্তশালী কিডনি রোগী এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে কিডনি ডোনার সংগ্রহসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতেন। তাঁর মাধ্যমে ৫০-এর বেশি কিডনি কেনাবেচা হয়েছে বলে তিনি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার মো. মিজানুর রহমান (৪৪) কিডনি ডোনারদের পার্শ্ববর্তী দেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট, ব্যাংক এনডোর্সমেন্ট, মেডিকেল ডকুমেন্টস, ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করে থাকেন। তিনি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এ কাজ করে আসছেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন