ঢাকায় লাশের একাধিক খণ্ড উদ্ধার, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি পুলিশের
রাজধানীতে গণস্বাস্থ্য হোমিওর বিপণন কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তারা বলছে, ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করেন তাঁর সঙ্গে একই বাসায় থাকা হোটেল কর্মচারী শাহীন আলম। রাতে মুঠোফোনে জোরে কথা বলা নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। বাক্বিতণ্ডা–গালিগালাজের এক পর্যায়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করেন শাহীন। হত্যার পর ওবায়দুল্লাহর লাশ কয়েক টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে শাহীন ফেলে দেন।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ বলেন, এই হত্যার ঘটনায় শাহীনকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দেন।
ডিসি হারুন অর রশীদ বলেন, ওবায়দুল্লাহ ও শাহীন তিন মাস ধরে কমলাপুরের জসীমউদ্দিন রোডের একটি বাসায় থাকছিলেন। শাহীন মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী। আর ওবায়দুল্লাহ গণস্বাস্থ্য হোমিওর বিপণন কর্মকর্তা। এই বাসাতেই ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে হত্যার কারণে হিসেবে পুলিশ বলছে, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে শাহীন কাজ শেষে বাসায় ফেরেন। তখন ওবায়দুল্লাহ তাঁকে সিগারেট আনতে বলেন। শাহীন বলেন, তাঁর কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই। পরে জোর করে তাঁকে সিগারেট আনতে পাঠান তিনি। এরপর নানরুটি ও কাবাব আনতে বলেন। শাহীন খাবার এনে দিলে ওবায়দুল্লাহ একাই তা খেয়ে ফেলেন। এতে ক্ষিপ্ত হন শাহীন।
হারুন অর রশীদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানিয়েছেন, খাবার খাওয়ার পর ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। শাহীন ক্লান্ত ছিলেন। তিনি কিছুটা বিরক্তও ছিলেন। তিনি অনুরোধ করেন, আস্তে কথা বলতে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শাহীন ও তাঁর মা-বাবাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেন ওবায়দুল্লাহ। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র বাক্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধুতে যান। তখন শাহীন পেছন থেকে তাঁকে চাপাতি দিয়ে তাঁর ঘাড় ও গলায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে নিজেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে লাশটি টুকরা টুকরা করেন শাহীন।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তি তাঁকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। এ নিয়েও তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল। এই বিষয়টিও হত্যার পেছনে কাজ করেছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হত্যার পর বিভিন্ন স্থানে লাশের খণ্ড ফেলে দেওয়া হয় জানান হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ঢাকার চার জায়গা থেকে লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিসি হারুন অর রশীদ বলেন, লাশের কিছু খণ্ড পরিবহনে কালো পলিথিন ব্যবহার করেন শাহীন। কিছু অংশ বালতি ও গামছায় মোড়ানো অবস্থায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নেন। সিএনজিচালককে তিনি বলেছিলেন, বালতিতে বিষাক্ত কেমিক্যাল আছে। নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। পরে শাহীনকে শনাক্ত করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক।
শাহীনকে শনাক্ত করার বিষয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত দিকের সিসিটিভি ফুটেজে একটি সাইকেল আরোহী যুবককে দেখা যায়। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে শাহীনের বাসায় অভিযান চালানো হয়। বাসা থেকে সেই সাইকেল ও হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়।