default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ছোট ভাই জামাল মুন্সি (৫০) নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে আশুগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন হানিফ মুন্সির আরেক ছোট ভাই জাহাঙ্গীর মুন্সি।

হানিফ মুন্সি উপজেলার চরচারতলা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। মামলায় চরচারতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন খন্দকার, ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম, তাঁর বাবা উপজেলা বিএনপি নেতা আবু শহীদ মিয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সেলিম পারভেজসহ নাম উল্লেখ করে ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২০-২৫ জনকে। সব আসামি চরচারতলা গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মাসুদ মিয়া (৩৫), মাহবুবুর রহমান (২৫), কাউছার মিয়া (৩৫), খোকন মিয়া (৩৫) ও রনি মিয়া (৩০)। আজ রোববার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে প্রতিপক্ষের ছোড়া বল্লমের আঘাতে নিহত হয়েছেন জামাল মুন্সি। তিনি চরচারতলার মুন্সিবাড়ির ফজলুল হক মুন্সির ছেলে। হানিফ মুন্সির বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চরচারতলা গ্রামের লতিবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুন্সিবাড়ির বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চরচারতলা ঈদগাহ মাঠের পাশে আবুল মিয়ার দোকানে হানিফ মুন্সির ভাই মুমিন মুন্সি ও একই এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাদ্দাম মিয়ার মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনা জানতে পেরে উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি রাতেই সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন। পরে উভয় পক্ষ বাড়িতে চলে যায়।

এ ঘটনার জেরে একই এলাকার লতিবাড়ির আবু শহীদ, সেলিম, আবদু, জিয়া খন্দকার, শফিক, দিলুর নেতৃত্বে তাঁদের লোকজন দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাত একটার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা চালান। সে সময় হানিফ মুন্সির ছোট ভাই জামাল মুন্সিসহ আরও কয়েকজন এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় জামাল গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাত–আটজন আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামালকে উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিল্যাব হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ বলেন, হত্যা মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আসামিপক্ষের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, শনিবার সন্ধ্যার পর কয়েকজনের মধ্যে সামান্য উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। তবে এতে তেমন কিছু ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন