default-image

নানা অভিযোগ, মামলা ও দল থেকে বহিষ্কারের পরও রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মুক্তার আলীই জয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর ভোট যোগ করলেও তার সমান হচ্ছে না।

আড়ানী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১৩ হাজার ৯৮৪ জন। শনিবার সন্ধ্যায় বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আড়ানী পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহিন রেজা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। মোট ভোটের মধ্যে নারকেলগাছ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মুক্তার আলী ৫ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহীদুজ্জামান নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৩০০ ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী তোজাম্মেল হক ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৭৬ ভোট। বিএনপির প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট যোগ করলেও মুক্তার আলী ৩২৮ ভোট বেশি পেয়েছেন।

মুক্তার আলী আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০১৫ সালের নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দল থেকে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারকেলগাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বিজ্ঞাপন

দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দায়ে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। গত বুধবার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এ জন্য তাঁকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়। পরদিন রাতে নির্বাচনী এলাকার নূরনগর এলাকায় নৌকা প্রার্থীর দুই সমর্থকের ওপর হামলা হলেও তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনা হয়।

অবশ্য মুক্তার আলী নির্বাচন চলাকালে আড়ানী মনোমোহিনী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে তাঁর প্যান্ট তুলে পায়ের জখম দেখিয়ে বলেন, তাঁর ওপরই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আহত হয়েছেন। তাঁর লোকজন আহত হয়েছেন। তাঁর লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচন অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এভাবে ভোট হলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। তিনি বলেন, তিনিও নৌকার পক্ষে। কিন্তু এখানে সংগত কারণে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন।

তিনি বলেন, রেললাইনের উত্তর পাশের তিনটি কেন্দ্র তিনি দেখতে গিয়েছিলেন। ওই এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বাড়ি। সেখানে একটি কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীর লোকেরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিরুদ্ধে প্রার্থী থাকতেই পারে। তাঁকে মেনে নেওয়ার মতো ধৈর্য না থাকলে তাঁর নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত নয়।

ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন