মাহবুবের চাচাতো ভাই আহসান হাবীব প্রথম আলোকে বলেন, থানায় গত রাতে এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। এখনো সেটা নথিভুক্ত হয়েছে কি না জানা নেই। কাদের আসামি করা হয়েছে সেটা সন্ধ্যায় জানাতে পারবেন।

গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের আমদহ গ্রামে মাহবুব খানকে কুপিয়ে জখম করা হয়। রাত ১২টা ৫০ মিনিটে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মাহবুবের মৃত্যু হয়। নিহত মাহবুব আমদহ গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। তিনি মৌসুমি বিভিন্ন ব্যবসা করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালের জুন মাসে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকায় কথিত তাছের পীরের দরবারে ভক্ত এক তরুণ খুন হন। ওই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন মাহবুব। এ নিয়ে মাহবুব খানের সঙ্গে তাঁর এলাকার কয়েকজনের বিরোধ ছিল। জামিনে তিনি এলাকায় ছিলেন। এরপর গত বছর ওই পীরের দরবারে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব নিয়ে হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরীর সঙ্গে মাহবুবের বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, সেলিম চৌধুরী ও তাঁর লোকজন দরবার উচ্ছেদ করতে হামলা চালিয়েছিলেন। এ নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

মাহবুবের চাচাতো ভাই আহসান হাবীব প্রথম আলোকে বলেন, সেলিম চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ইন্ধন ছাড়া এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে না। তাঁদের ইন্ধনেই তাঁর ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করলেই সব বের হয়ে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁদের (মাহবুব) নিজেদের বিরোধে হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এর দায় আমার ও আমার পরিবারের ওপর চাপানো হচ্ছে। আমি এলাকাতেই আছি। সুষ্ঠু তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। আমি নিজেও তদন্ত করতে পুলিশকে সহযোগিতা করব। তা ছাড়া ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা রয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন