গত শুক্রবার খাসিয়াপুঞ্জির লোকজনের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় ছয়জন আহত হন। নাগরিক বন্ধনে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, সিলেট অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছে গারো-খাসিয়াসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র জনজাতি, যা সিলেটের নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। সীমান্তবর্তী পাহাড়-টিলা ও দুর্গম বনাঞ্চলে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর বসবাস। সবাই জানে, প্রথাগতভাবে পান চাষের মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের উৎপাদিত খাসিয়া পান সিলেটের একটি কৃষিজ পণ্য। পান চাষের জন্য প্রাকৃতিক বনের সংরক্ষক তারা। এ অবস্থায় তাদের বন ধ্বংস করে নতুন করে বনায়ন তাদের উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র। এ অবস্থায় গারো ও খাসিয়া লোকজনের ওপর হামলার ঘটনায় পাহাড়ের মানুষ বিপন্ন। তাদের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় নাগরিক বন্ধনে একাত্ম হয়ে বক্তব্য দেন আদিবাসী পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সংগঠক ফাদার যোশেফ গোমেজ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর, ভাষাসৈনিক মোস্তাফা শাহজামান চৌধুরী, প্রেস বিটারিয়ান চার্চের সভাপতি দীপন নিঝুম সাংমা, তথ্যচিত্র নির্মাতা নিরঞ্জন দে, আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক দেবাশীষ দেবু, দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরার সংগঠক রাজীব রাসেল প্রমুখ।

পাহাড়ের মানুষের বিপন্ন হওয়ার বিষয়টি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নাজিয়া চৌধুরী বলেন, পুঞ্জির মানুষগুলো যদি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে থাকে, তবে রাষ্ট্রকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনকালে বাঙালি নামধারী যে বা যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করার চক্রান্ত করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার হামলাকারীদের প্রশ্রয় দিতে পারে না। সরকার যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখে, সে ক্ষেত্রে বিবেকবানদের জেগে উঠতে হবে। সাম্প্রদায়িকতা ও জাতিবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড রুখে দেওয়াই হোক এ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন