default-image

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও ওই আসনের সাংসদের ছেলে তানজির আহমেদ ওরফে রাজিবের সমর্থকদের মধ্যে রোববার দুপুরে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

বিকেলে মেয়র সৈয়দ রফিকুল গৌরীপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, তানজির আহমেদের সমর্থকেরা তাঁর (মেয়র) ওপর হামলা করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন আহমেদ। সাংসদের অভিযোগ, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে গৌরীপুরে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মেয়র ও মেয়রের লোকেরা বাধা দেন। এ সময় তাঁর গাড়িবহরেও মেয়রের সমর্থকেরা হামলা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বঙ্গবন্ধু চত্বরে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর ও সমর্থকদের নিয়ে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মেয়র রফিকুল। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেয়র তাঁর সমর্থকদের নিয়ে গৌরীপুর পৌর শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার পৌরসভা কার্যালয়ে যান। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর তিনি সমর্থকদের নিয়ে বের হয়ে আসার পর বাস টার্মিনাল এলাকায় তানজির আহমেদের সমর্থকদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে গৌরীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতে সংঘর্ষ চলে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য, অন্তত ৩০ মিনিট দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় একাধিক গুলির শব্দ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় বেলা দুইটার দিকে মেয়রের সমর্থকেরা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে বিকেলে মেয়রের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র রফিকুল বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমাকে একটি মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়। এতে আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইনি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে মেয়র নির্বাচিত হই। নির্বাচনে আমাকে পরাজিত করতে না পারার কারণে এবার আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। সাংসদ নাজিমউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানজির আহমেদ এ হামলার নেতৃত্ব দেন। হামলার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা (পুলিশ) নীরব ভূমিকা পালন করে।’

একই ঘটনায় রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় পরিকল্পিতভাবে মেয়র ও তাঁর লোকেরা গৌরীপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা করেন। এ সময় তাঁর (সাংসদ) গাড়ি কোনো রকমে বাস টার্মিনাল এলাকা অতিক্রম করলেও পেছনে থাকা তাঁর ছেলে তানজির আহমদ ও অন্যদের গাড়িবহরে মেয়রের লোকজন হামলা চালান। এ সময় মেয়রের লোকজন রামদাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রের পাশাপাশি রেললাইনের পাথর ছুড়ে মেরে তানজিরের অন্তত ২০ জন সমর্থককে আহত করেন।

সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন আরও বলেন, মেয়র রফিকুল বিএনপির লোকদের সঙ্গে নিয়ে গৌরীপুরে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছেন। এতে তিনি (সাংসদ) জীবনের নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। এ ছাড়া মেয়র একটি হত্যা মামলার আসামি হলেও পুলিশ এ মামলার অভিযোগপত্র দিচ্ছে না।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান হালিম সিদ্দিকী বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশের নীরব ভূমিকার কথা বলে মেয়র যে অভিযোগ করেছেন, সেটি ঠিক নয়। মেয়রের লোকেরা ঘটনাস্থলে ক্ষুব্ধ আচরণ করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমানকে হত্যা করে দুবৃর্ত্তরা। এ হত্যার ঘটনায় গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুলকে আসামি করা হয়। রফিকুল ইসলাম গৌরীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। হত্যা মামলায় আসামি হওয়ায় তাঁকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত ৩০ জানুয়ারি গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রফিকুল মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচনের দিন বিকেলে মেয়র সাংসদকে ফোনে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন অভিযোগ করে সাংসদ ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন