default-image

আইন, নিয়মনীতি মেনে ও বৈধভাবেই বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নওয়াববাড়ি (নওয়াব প্যালেস) কেনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সম্পত্তির অন্যতম ক্রেতা বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান। আজ বুধবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, এ সম্পত্তি কেনায় কম মূল্য দেখানো হয়নি। নওয়াব প্যালেস ভেঙে ফেলার খবর সঠিক নয়, যৌক্তিক কারণেই সংস্কার করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর স্মৃতিবিজড়িত প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী এই ‘নওয়াব প্যালেস’ ক্রয় সম্পর্কে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘নওয়াব প্যালেস বা মোহাম্মদ আলী প্যালেসের মোট সম্পত্তি ৪ একর ৩২ শতাংশ। এর মধ্যে ৯৯ শতক আলতাফ আলী মার্কেট, র‌্যাংগ্‌স গ্রুপ কিনেছে ২৩ শতক, ৬৩ শতক কিনেছে রানার গ্রুপ, আমরা তিনজন কিনেছি ১ একর ৫৫ শতক। ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল কবলা দলিলমূলে এই সম্পত্তি কেনা হয়। তখন বাজারমূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৩৫৪ টাকা প্রতি শতক হিসেবে দলিল সম্পাদন করা হয়। এরপর ওই বছরের ১২ মে নওয়াব প্যালেসের ৪ একর ৩২ শতক সম্পত্তিকে “সংরক্ষিত পুরাকীর্তি” ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। সেখানে নওয়াব প্যালেসের ভেতরে থাকা কিছু চেয়ার, টেবিল আর ছবিকেই কেবলমাত্র “সংরক্ষিত পুরাকীর্তি’’ ঘোষণা করা হয়।’

মাসুদুর রহমান আরও বলেন, ‘এরপর জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে ফয়সালা চেয়ে দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হয়। তাতে সাড়া না পেয়ে ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি ব্যক্তিগত সম্পত্তি পুরাকীর্তি ঘোষণায় সরকারের গেজেট প্রকাশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হয়। এতে আদালত সরকারের ১৭টি সংস্থাকে রুল দেন। কেউ জবাব দেয়নি। ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ ভূমি আপিল বোর্ড এ সম্পত্তি আমাদের নামে তফসিলভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট দ্রুত অধিগ্রহণের পক্ষে রায় দেন। এরপর এ বছরের ১৮ জানুয়ারি আদালত আমাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেন।’

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুর রহমান দাবি করেন, জেলা প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতেই এ সম্পত্তি কেনা হয়েছে। নওয়াববাড়ি ওয়াক্ফ সম্পত্তি নয়। ১৯৩২ সালে ঋণের দায়ে এ সম্পত্তি নিলামে ওঠে। মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ১২ হাজার টাকায় নিলামে কিনে নেন। ব্যক্তিগত সম্পত্তি তাঁর বৈধ অংশীদারের কাছে ক্রয় করা হয়েছে।

default-image

চলমান বিতর্কের বিষয়ে মাসুদুর রহমান বলেন, নওয়াব প্যালেসের ভেতরে জরাজীর্ণ কিছু স্থাপনা ছিল। রাতের বেলা শ্রমিকেরা সেখানে সংস্কারকাজ করছেন। এ সময় মাসুদুর রহমান প্রথম আলোর প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করে বলেন, প্যালেস ভেঙে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের খবর ভিত্তিহীন। এ সম্পত্তি কেনায় কোনো রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়নি। যৌক্তিক বাজার দামেই ওই সম্পত্তি কেনা হয়েছে। প্রতিবেদনে সম্পত্তি কেনায় ‘দুর্নীতিবাজ’ বলা হয়েছে। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন।

এ সময় নওয়াব প্যালেস নিয়ে মালিকদের কী পরিকল্পনা, সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এটা নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন কী করব, সেটা আর বলব না।’

সংবাদ সম্মেলনে নওয়াব প্যালেসের তিন ক্রেতার মধ্যে অন্য দুজন অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন বগুড়ার ব্যবসায়ী ও হাসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম শাফিকুল হাসান এবং শাহ সুলতান গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল গফুর।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন