default-image

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘরে পানি ওঠায় গত কয়েকদিনে পাশের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৬০টি পরিবার তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি উচ্চবিদ্যালয় ও হাকালুকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে কানুনগো বাজারের খালি ঘরেও উঠেছেন। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার ও খিচুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। এখানে আশ্রয় নেওয়া লোকজনের বেশিরভাগই দিনমজুর। রুজি বন্ধ থাকায় চাহিদামতো খাবার পাচ্ছেন না তাঁরা। খাদ্যসংকট আছে গ্রামের ভেতর আটকে থাকা পরিবারগুলোতেও।

হাকালুকি উচ্চবিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া মুর্শিবাদকুরা গ্রামের অটোরিকশাচালক সেলিম উদ্দিন আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরার বাড়িটা বেশি নিচে। বাঁশ-বেতের ঘর। ঘরের মধ্যে কোমরপানি। উন্দাল (রান্নাঘর) পড়ি গেছে। তুফান দিলে ঘরটাও পড়ি যাইবো। ১০/১১ দিন আগে এইখানে আইছি (আসছি)। এই কয়দিন ধরি রুজি-রোজগার বন্ধ। থোরা (অল্প) চিড়া, মুড়ি, খিচুড়ি পাইছি।’

আশ্রয়কেন্দ্রে কেউ ভালো নেই জানিয়েছেন বড় ময়দান গ্রামের বেলাল মিয়াও। তিনি বলেন, ‘এখানো (এখানে) রিকশা, ঠেলা, অটোর ড্রাইভার, মাছ ধউররা (মৎস্যজীবী) মানুষ উঠছি। চিড়া, মুড়ি, খিচুড়ি খাইয়া আছে সবাই।’

তালিমপুর ইউনিয়নের বড় ময়দান, মুর্শিবাদকুরা, হাল্লা, কুটাউড়া, আহমদপুর, শ্রীরামপুর, পাবিজুরি, বাড্ডা, দশঘরি গ্রামের প্রায় সব বাড়িঘরে পানি উঠেছে বলে জানিয়েছেন মুর্শিবাদকুরা গ্রামের শিক্ষার্থী মিথুন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘হাওরপারে প্রায় সব পাকা বাড়িই একতলা। আশ্রয় নেওয়ার জায়গা কম।’

default-image

স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক মিন্টু বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, হাওরে সাধারণত ধীরে ধীরে এক-দুই ইঞ্চি করে পানি বাড়ে। এবার তিন দিনে (শনি থেকে সোমবার) দ্রুত পানি বেড়ে গেছে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল রাখার জায়গা নেই। এসব প্রাণী যে অন্য জায়গায় নেবে—নৌকাও নেই। গুটিকয় মৎস্যজীবীর নৌকা আছে। এদিকে নৌকা ছাড়া বের হওয়ার উপায় নেই। মানুষ এখন আতঙ্কে। একটু বাতাস দিলে কাঁচা ঘর ভেঙে পড়বে।

প্রশাসন থেকে ও ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এনামুল হক। তিনি বলেন, প্রায় শতভাগ মানুষ পানিবন্দী। কিছু মানুষ স্কুলে আসছে। অনেকেই মাচা বেঁধে ঘরে আছে। রান্নায় খুব অসুবিধা। শৌচাগারও পানির নিচে।

দাসেরবাজার ইউনিয়নের উত্তর বাগীরপাড় গ্রামের শিক্ষক বকুল চন্দ্র নাথ বলেন, ‘বাড়িঘরে পানি। রাস্তায় কোমর পানি। পুরাই জলবন্দী আমরা।’

গত কয়েক দিনে ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১০ হাজার মানুষ উঠেছেন বলে জানিয়েছেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী।

আজ বুধবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যথেষ্ট ত্রাণ আছে। শুকনা খাবার, খিচুড়ি ও চাল দেওয়া হচ্ছে। কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছানো হচ্ছে। প্রবাসীসহ ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে ত্রাণ দিচ্ছেন। এরপরও কেউ কেউ ত্রাণ না–ও পেতে পারেন।

ইউপি চেয়ারম্যানদের খোঁজ নেওয়ার জন্য বলে দিয়েছেন জানিয়ে ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী বলেন, আমি গতকাল নিজে গ্রামের ভেতর গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছি। আজকেও খোঁজ নিচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন