বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নারীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আশিকের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা। এত মামলার আসামি বীরদর্পে ঘোরাফেরা করেন কীভাবে?

ফজলুল কাদের চৌধুরী: ১৬ মামলার আসামি বীরদর্পে ঘোরাফেরার সুযোগ পান বলেই ধর্ষণের সাহস পান। বারবার অপরাধ করার শক্তি পান। আইনের ফাঁকফোকরে এসব সন্ত্রাসী কীভাবে জামিন পান, কারা তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা, খুঁজে বের করা উচিত। হত্যা, ধর্ষণ, অস্ত্রসহ ১৬ মামলার এই আসামি সম্প্রতি কারাগার থেকে বেরিয়েই ওই নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা সবাইকে অবাক করেছে। পর্যটন এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা মানা যায় না। দেশের অন্য স্থানে ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ হয়, কিন্তু কক্সবাজারের মতো এত বেশি হইচই হয় না। এ ক্ষেত্রে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

নিরাপত্তা যদি না থাকে, তাহলে কক্সবাজারে পর্যটকেরা আসবেন কেন?

ফজলুল কাদের চৌধুরী: নারী পর্যটক দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, এ ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ইতিমধ্যে পর্যটকেরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ কুয়াকাটা, পার্বত্য-চট্টগ্রামের দিকে ছুটছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ঝুঁকি নিয়ে কেউ আসতে চাইবেন না। ঢাকার হোটেলে থাকতে গেলে অতিথিদের এনআইডি কার্ড দিতে হয়, ছবি তুলে রাখে। মুঠোফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়। কিন্তু কক্সবাজারের অধিকাংশ হোটেল-গেস্টহাউসে তা করা হয় না। যে কেউ ইচ্ছা করলে হোটেলে রাত কাটাতে পারেন। কে কাকে নিয়ে হোটেলে উঠলেন, তার হিসাব নেই, টাকা পেলেই হলো। এভাবে ব্যবসা হয় না। হোটেলে অতিথির পরিচয় শনাক্তের ছবি ও এনআইডি কার্ড প্রদর্শন এবং ফরমে পরিচয় লিপিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তখন পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতাও কমে আসবে। ২০১৫ সালে বিদেশি একজন নারী পর্যটক ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। এরপর হোটেলে নারী ধর্ষণ, হত্যা, চুরি, ছিনতাই হচ্ছেই। এ পর্যন্ত কোনো ঘটনার বিচার হয়নি।

সমুদ্রের লোনাপানিতে শরীর ভেজাতে ও সূর্যাস্ত দেখতে প্রতিবছর ২৫ লাখের বেশি পর্যটক সৈকতে ছুটে আসেন। ১২০ কিলোমিটার সৈকতের কোথাও নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা নেই। প্রতিবছর গোসলে নেমে অসংখ্য পর্যটকের মৃত্যু হচ্ছে। সমস্যাটা কোথায়?

ফজলুল কাদের চৌধুরী: পৃথিবীর বিভিন্ন সৈকতে পর্যটকদের নিরাপদ গোসলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে, যেন গোসলে নেমে হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের শিকার না হন, কিংবা স্রোতের টানে গভীর সাগরে ভেসে না যান। কিন্তু কক্সবাজারে এত আন্দোলন-সংগ্রামের পরও নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এর একমাত্র কারণ সদিচ্ছার অভাব। গত ১০ বছরে সুগন্ধা পয়েন্টের মাত্র চার কিলোমিটারে গোসলে নেমে মারা গেছেন ১২০ জনের বেশি পর্যটক। আরও ১১৬ কিলোমিটারের অরক্ষিত সৈকতে গোসলে নেমে কেউ নিখোঁজ হলে উদ্ধারের কেউ নেই। একজন পর্যটক শহরে ঢুকলেই প্রতারক চক্রের উৎপাত শুরু হয়।

কলাতলীর মোড়ে হাঙর ভাস্কর্য নির্মাণ করে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে যে সমুদ্রে নামতে সাবধান থাকতে হবে। না হলে হাঙরের আক্রমণের শিকার হতে হবে। এখন আমরা পর্যটকদের উল্টো বলছি, এটা ডলফিন ভাস্কর্য। ডলফিন তো আর হাঙরের মতো আক্রমণ করে না। সুতরাং পর্যটকেরা নির্দেশনা না মেনেই সাগরে ঝাঁপ দিচ্ছেন, বিপদে পড়ছেন।

নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার দূরের কথা, একজন ডুবুরিও নেই। জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য পুরো সৈকতে থাকে না চিকিৎসক দল। গোসলে নামার জায়গায় দ্রুতগতির নৌযান জেডস্কির ছোটাছুটি, বালুচরে অর্ধশতাধিক ঘোড়ার লম্ফঝম্প এবং ভটভট শব্দে কয়েক শ বিচ-বাইকের চলাচল পর্যটকের স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। এসব যেন দেখার কেউ নেই। এতগুলো বাধা ও মরণফাঁদের ভেতরে পর্যটকের নিরাপত্তা এবং পর্যটনের বিকাশ কীভাবে সম্ভব?

একজন পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে এলে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কী পরামর্শ দেবেন?

ফজলুল কাদের চৌধুরী: অধিকাংশ পর্যটক ঢাকা থেকে রাতে বাসে রওনা দেন। ভোরে তাঁরা কক্সবাজারের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে নামেন। সেখান থেকে চার কিলোমিটার দূরে সৈকতের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে আসতে গিয়ে বাইপাস সড়কে ছিনতাইয়ের কবলে পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে। সৈকতে গোসলে নামার আগে জোয়ার-ভাটার হিসাব করতে হবে। ভাটার সময় সমুদ্রে নামা নিষেধ। সন্ধ্যার পর ঝাউবাগানের ভেতরে আড্ডা কিংবা মেরিন ড্রাইভে একাকী না যাওয়া ভালো। সৈকত এলাকাসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকানে ভাজা মাছ বিক্রি হয়। অধিকাংশ মাছ পচা-বাসি থাকে। সস্তায় পেয়ে এসব ভাজা মাছ ও কাঁকড়া না খাওয়াই ভালো। পচা ভাজা মাছ খেয়ে পর্যটকের মৃত্যু এবং অনেক মানুষ অসুস্থ হওয়ার নজির আছে। হোটেলকক্ষ ভাড়া এবং রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার আগে মূল্যতালিকা দেখে নিন। অতিরিক্ত মূল্য আদায় করলে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযোগ কেন্দ্রে নালিশ করা যায়। কারও ওপর পুরোপুরি ভরসা না রেখে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নিজেকে সংযত রাখুন। দালালের মাধ্যমে কোথাও যাতায়াত কিংবা কেনাকাটায় সতর্ক থাকতে হবে। শুঁটকি মাছ কেনার আগে যাচাই করে নিতে হবে আসল-নকল। ইদানীং সৈকত এলাকায় বিভিন্ন দোকানে বিদেশ থেকে আমদানি করে আনা কয়েক বছরের পুরোনো শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে। কক্সবাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বলে এসব শুঁটকি ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব শুঁটকিতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর উপাদান বা বিষ মেশানো থাকে, যা খেলে ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন