বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিও চিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ হয়ে হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফিরছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা। পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে আটক করে। পরে নীলিমা রিসোর্ট থেকে শিপ্রা দেবনাথকে আটক করা হয়। দুজনই এখন জামিনে মুক্ত।

ওই ঘটনায় টেকনাফ থানায় করা পুলিশের মামলায় সাক্ষী করা হয় মারিশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন, নাজিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াস। পরে তাঁদের তিনজনকে সিনহার বোনের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রথম দফায় এই তিন সাক্ষীকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন র‌্যাবের তদন্তকারীরা। ২৩ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁদের দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।

শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা জেলা কারাগারে যান। সোয়া ১১টার দিকে আসামি নুরুল আমিন, নাজিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াসকে গাড়িতে তুলে নেন তাঁরা। প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁদের নেওয়া হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে তাঁদের নেওয়া হয় র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে। বর্তমানে ওই তিনজনকে সেখানে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খাইরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে তৃতীয় দফায় সিনহা হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়। শনিবার থেকে তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তবে প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলালের সঙ্গে মারিশবুনিয়ার এই তিন সাক্ষীর মুখোমুখি জেরা হবে কি না, সেটি নিশ্চিত করেনি তদন্তকারীরা।

র‌্যাব সূত্র জানায়, সিনহা হত্যা মামলার মোট ১৩ জন আসামি রয়েছেন। তাঁরা হলেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন, এপিবিএনের তিনজন এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ এবং টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আইয়াস।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন