আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়ার পাশাপাশি সতর্কসংকেত প্রত্যাহার না করায় ওই তিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে কোনো জাহাজ সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যেতে না পারায় কোনো পর্যটক ফিরতে পারেননি। অন্যদিকে সাগর উত্তাল থাকায় যাত্রী নিয়ে কোনো ট্রলার সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে অনুমতি দেয়নি স্থানীয় কোস্টগার্ড।

ঢাকার গাজীপুর থেকে পরিবারের আটজন সদস্যসহ বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী হোসাইন হাসনাত বলেন, ‘বেড়াতে এসে আটকা পড়ে গেলাম। ঘূর্ণিঝড়ের সংকেতের কথা শুনে প্রথমে ভয় পেলেও এখন আকাশে তারার ঝলমল দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। রাতের সেন্ট মার্টিনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ ও রেডিও নাফের কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, ৩ নম্বর সতর্কসংকেতের কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলেও সারা দিন প্রচণ্ড রোদ ছিল। তবে সাগর উত্তাল রয়েছে। দল বেঁধে পর্যটকেরা বিচরণ করছেন সৈকতসহ বিভিন্ন এলাকায়। রাতে আকাশে প্রচুর তারা দেখা যাচ্ছে। সমুদ্রের পানি অন্য দিনের চেয়ে ঝলমল করছে। এসব দেখতে পর্যটকেরা সৈকতে ভিড় করছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন বলেন, শনিবার টেকনাফ থেকে সকালে ছেড়ে যাওয়া ছয়টি জাহাজ সন্ধ্যার দিকে টেকনাফের পথে ছিল। ওই দিন ৬টি জাহাজে ১ হাজার ৬০৩ জন পর্যটক দ্বীপে বেড়াতে গেলেও ৫ শতাধিক পর্যটক স্বেচ্ছায় রাত্রিযাপনের জন্য সেন্ট মার্টিনে রয়েছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়ার সতর্কসংকেত বলবৎ থাকায় টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ ছেড়ে যেতে পারেনি সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে। দ্বীপে অবস্থান করা পর্যটকেরাও ফিরতে পারেননি।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, টেকনাফের পাশাপাশি কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন ও চট্টগ্রাম–সেন্ট মার্টিন হয়ে আসা দেড় হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে অবস্থান করছেন। আটকে পড়া পর্যটকেরা ভালো রয়েছেন। অধিকাংশ পর্যটকেরা সমুদ্রসৈকতের কোমরসমান পানিতে স্নান ও সৈকতে বিচরণের মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছেন। তবে কোনো ধরনের পর্যটক হয়রানি যাতে না ঘটে, তার জন্য বিচকর্মীদের দিয়ে বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে।